দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিফা’র তরফে এল নিমন্ত্রণ। থাইল্যান্ডের ‘ওয়াইল্ড বোরস’ দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে বসে খেলা দেখার নিমন্ত্রণ জানালেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। সঙ্গে আশা রাখলেন সেই সময়ের মধ্যে বদ্ধ গুহার অন্ধকূপ থেকে নিশ্চয় সূর্যের আলো দেখতে পাবে এই ফুটবলাররা।
২৩ জুন প্র্যাকটিসের পর দলের ১২ খেলোয়াড় এবং তাদের কোচ নিছক কৌতুহলের বশেই জঙ্গলের মধ্যে এক গুহায় ঢোকে। ধ্বসের কারণে গুহামুখ বন্ধ হয়ে গেলে তারা সেখানে আটকে পড়ে। খেলোয়াড়দের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে ও কোচের বয়স ২৫। ইতিমধ্যেই তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে থাইল্যান্ডের সেনা। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা ও চীন। কিন্তু গুহার মধ্যে জলের স্তর বেড়ে যাওয়ায় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।
থাইল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানের কাছে ইনফ্যান্টিনো একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই আশা করি ছেলেরা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারবে ও তাদের শরীর সুস্থ থাকবে। ১৫ জুলাই রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ফিফার তরফে বিশেষ অতিথি হিসেবে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হলো। আমরা সবাই মিলে বিশ্বকাপ ফাইনালের উৎসব পালন করব।”
শুধু ইনফ্যান্টিনোই নন, বিশ্বকাপের আবহের মধ্যেও থাইল্যান্ডের আটকে পড়া ছেলেদের জন্য বিভিন্ন খেলোয়াড়, কোচ ও দলের তরফে এসেছে শুভেচ্ছা বার্তা। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জন স্টোনস বলেছেন, “আমরা খেলার মধ্যেও এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। তাদের এই অবস্থার জন্য আমরা খুবই দুঃখিত। আমরা আশা করি খুব শিগগির তারা নিজেদের পরিবারে ফিরে আসবে।” জাপানের বিশ্বকাপ দলের তরফে একটি ভিডিও টুইট করে বার্তা দেওয়া হয়েছে, “নিজেদেরকে শক্ত রাখো।” ব্রাজিলের ফুটবল তারকা রোনাল্ডো বলেছেন, “এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আশা করি কেউ তাড়াতাড়ি ছেলেগুলোকে বের করে নিয়ে আসার রাস্তা খুঁজে পাবে।”
ডাকাবুকো কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও এই দুঃসময়ে থাইল্যান্ডের বাচ্চাদের পাশে আছেন। এক বিদেশী সংবাদ চ্যানেলের কাছে একটা ভিডিও পোস্ট করে তিনি বলেছেন, “শক্ত থাকো, আমরা তোমাদের পাশে আছি। আমরা খবর রাখছি এবং প্রতি মুহূর্তে আশা করছি তোমরা যেন সূর্যের আলো দেখতে পাও।” ক্রোয়েশিয়া দলের তরফে আবার এই বিপদের মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় থাকার জন্য ছেলেদের ও তাদের কোচের প্রশংসা করা হয়েছে।
এই সংবাদ বাইরে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘ওয়াইল্ড বোরস’ দলের ফুটবলার ও তাদের কোচেদের সম্পর্কে প্রশংসা শুরু হয়েছে। সবাই দলের ছেলেদের সাহসী মানসিকতা ও ঠাণ্ডা মাথার প্রশংসা করেছেন। কেউ তো আবার এও বলেছেন এই বিপদের মুখে সাহসী মানসিকতার জন্য তাদের বিশ্বকাপ দেওয়া উচিত। আপাতত বিশ্বকাপ না মিলুক, বিশ্বকাপের ফাইনালে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়ে গিয়েছে ‘ওয়াইল্ড বোরসে’র ১২ ফুটবলার ও কোচ।