দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের জেরে সাধারণ মানুষের অসুবিধা নিয়ে অবস্থান-প্রতিবাদ করছিলেন মধ্যমপ্রদেশের ইন্দোরের একদল ছোট ব্যবসায়ী। তাঁদের মধ্যেই নজর কেড়ে নেন ফল ও আনাজ-বিক্রেতা এক তরুণী। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। আর নিতান্তই সাদামাঠা সেই 'সবজিওয়ালি'র প্রতিবাদের ভাষা রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেয় সকলকে। ঝরঝরে ইংরেজিতে অকাতরে সরকারের সমালোচনা করে যাচ্ছেন তিনি!
এই ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই হই হই পড়ে গিয়েছে তরুণীর পরিচয় নিয়ে। রাইসা আনসারি নামের ওই তরুণীর দাবি, ২০১১ সালে ইন্দোরের দেবী অহল্যা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন! পরিস্থিতির ফেরে ঠেলাগাড়িতে আনাজ বিক্রি করতে হলেও, 'মেটেরিয়াল সায়েন্সের' মতো কঠিন বিষয়ে তিনি ডক্টরেট বলে তাঁর দাবি। এমনটা নিজের মুখেই সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।
কিন্তু চমকে ওঠার মতো বিষয় হল, এমন শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্বেও চাকরি জোটেনি তাঁর। শুধু তাই নয়, তরুণী রাইসার অভিযোগ, মুসলিম বলেও তাঁর চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা পেতে হয়েছে বারবার। শেষমেশ হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি। বাবা মারা যাওয়ার পরে রোজগারের তাগিদে বাবার সেই ঠেলাগাড়িতে করে সবজি বেচার পথেই সংসারের হাল ধরেন তিনি।
দরিদ্র পরিবারে চরম লড়াই করে বড় হওয়া রাইসা শিক্ষাক্ষেত্রে তাক লাগানো উন্নতি করলেও, পরিস্থিতি তাঁর সমস্ত স্বপ্নকে চাপা দিয়ে দিয়েছে। তাঁর কথায়, "আমি মুসলিম। তার উপরে গরিব। দাঁতে দাঁত চেপে পড়াশোনা শেষ করেছি। কিন্তু তার পরে কোনও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে চাকরি দিতে চায় না। এবার প্রশাসনই বলে দিক আমি কী করব! কোথায় যাব! সংসার তো চালাতে হবে।"
দেখুন ভিডিও।
https://twitter.com/Anurag_Dwary/status/1286277557436870656
বৃহস্পতিবার ইনদোরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলাকালীন আনাজ-বিক্রেতাকে বিশুদ্ধ ইংরেজিতে গড়গড়িয়ে কথা বলতে দেখেই চমকে ওঠেন সকলে। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা তখন তাঁর দিকেই। সকলে যেন মুগ্ধ হয়ে গেছেন। তার পরেই ভাইরাল হয় রাইসার প্রতিবাদ।
দেখা যায়, গড়গড়িয়ে বলা ইংরেজিতে সরকারের লকডাউন-নীতি নিয়ে সমালোচনা করছেন তিনি। ইন্দোরে যেভাবে লকডাউন জারি করেছে সরকার, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বলেছেন, এমন অপরিকল্পিত লকডাউনের কারণে দৈনিক পরিশ্রম করে উপার্জনকারীরা চরম সমস্যায় পড়েছে। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও সমালোচনায় বিদ্ধ করেন রাইসা।