দ্য ওয়াল ব্যুরো: একফালি ফুটপাথেই ছিল জীবন ও যাপন। সেখানেই এক অসম লড়াই চলছিল ভারতীর। মাধ্যমিকের বাধা টপকানোর লড়াই। দিনের বেলা হই হট্টগোল আর রাতের বেলা অন্ধকার, মশার কামড়। এসবের মধ্যেই চলেছে প্রস্তুতি। অবশেষে কঠিন চ্যালেঞ্জ উতরে গেছে সে। পাশ করেছে মাধ্যমিক। এ খবর সামনে আসতেই অবসান হল ফুটপাথ জীবনের। থাকার জন্য উপহার মিলল ফ্ল্যাট। আগামীর লড়াই হয়তো একটু সহজ হল।
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের পুরনিগমের শিবাজী মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতের বাসিন্দা ভারতী খাণ্ডেরকর। সেখানেই মা-বাবা, ভাই-বোনের সঙ্গে বসবাস তার। ফুটপাথে থাকলেও আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছিল ছোট্ট মেয়েটা। অনেক লেখাপড়া করে বড় হতে চেয়েছিল। কিন্তু ফুটপাতে থেকে লেখাপড়া করা কি সহজ! দিনরাত গা ঘেঁষে চলছে বড় বড় গাড়ি। হাজার মানুষের কোলাহল। তাছাড়াও কত রকম কাজকর্ম। তাই দিনের বেলা পড়াশোনা করা সম্ভব হত না ভারতীর।
ভারতী আর বইয়ের বন্ধুত্ব গভীর হতো রাত বাড়লে। রাস্তায় লোক চলাচল কমে গেলে ভারতী পড়তে বসত। সারারাত চলত পড়াশোনা, পথের আলোই ভরসা। দিনের পর দিন এভাবেই চলেছে। কষ্টেসৃষ্টে জোগাড় করা বইখাতা, কর্পোরেশনের স্কুলের শিক্ষকদের উৎসাহ, আর নিজের মনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি। তাই নিয়েই এ বার সে মাধ্যমিকে ৬৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করেছে।
অসাধ্য সাধন করার এই খবর পান ইন্দোরের পুরকমিশনার। তার পরেই তিনি ভারতীর জন্য একটি ফ্ল্যাটের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুধু ফ্ল্যাট নয়, ভারতীয় আগামীর পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছে ইন্দোর পুরনিগম। কমিশনারের নির্দেশ পাওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক ভারতীর জন্য একটি ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করেছেন। সেই সঙ্গে একাদশ শ্রেণির সমস্ত বই, চেয়ার-টেবিল ও পড়াশোনার প্রয়োজনীয় নানা সরঞ্জামও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তার কাছে।
https://twitter.com/ANI/status/1280991170873548801
মাধ্যমিক পাশ করতে পারার এত বড় উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভারতী। ভারতীর বাবা দশরথ দিনমজুর। মাও তাই। দু'জনেই সারাদিন পরিশ্রম করেন রোজগারের জন্য। ভারতী নিজেই রান্নাবান্না করত, ভাইবোনদের খেয়াল রাখত। এসব পার করে রাত জাগত পড়াশোনা করার জন্য। কখনও কখনও তার বাবা অথবা মাও সঙ্গে জাগতেন।
আইএএস অফিসার হতে চায় ভারতী। চরম প্রতিকূলতার মধ্যে সবে পার করা গেছে মাধ্যমিকের গণ্ডি। এখনও বাকি অনেকটা পথচলা। ভারতীকে আগামীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন সকলে।