দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ মানেই প্লাজমা থেরাপি করতে হবে, এমন নিয়মের কথা বলা হয়নি। পরীক্ষা না করিয়ে, রোগীর শরীরের ধরন ও অন্যান্য উপসর্গ বাছবিচার না করে প্লাজমা থেরাপি করা যাবে না একেবারেই। সাফ জানিয়ে দিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।
করোনা সারাতে কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপিকে (সিপিটি) সম্ভাব্য চিকিৎসাপদ্ধতি বলে ট্রায়ালে অনুমতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দেশজুড়েই বিভিন্ন রাজ্য, শহরে সিপিটি-র পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছিল। প্লাজমা থেরাপিতে রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার খবরও সামনে এসেছিল। তবে গত মাসে আইসিএমআর জানিয়েছিল, প্লাজমা থেরাপি কিছুক্ষেত্রে কার্যকরী। সব রোগীর শরীরে এই থেরাপি ইতিবাচক ফল নাও দিতে পারে। তাছাড়া প্লাজমা থেরাপিতে সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীর মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছিল আইসিএমআর।
কোভিড হানায় মৃত্যু ঠেকাতে কয়েকটি রাজ্য প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগে রীতিমতো সক্রিয়। তবে ইদানীং কালে এই থেরাপির প্রয়োগে বেশ কিছু ব্যর্থতার ঘটনাও ঘটেছে। প্লাজমা থেরাপিতে কোভিড মৃত্যু রোখা যায় কিনা সে নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। সবদিক বিচার করেই আইসিএমআর জানিয়েছে, সিপিটিকে এখনও সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতিই বলা যায়, তাই যথেচ্ছভাবে এর প্রয়োগ করা ঠিক নয়।
কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপির জন্য মাল্টিসেন্টার কন্ট্রোলড ট্রায়াল (প্লাসিড ট্রায়াল) শুরু করেছে আইসিএমআর। দেশের ৩৯টি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড রোগীদের উপরে এই কন্ট্রোলড ট্রায়াল চলছে। আইসিএমআর জানিয়েছিল, মোট ৪৬৪ জন কোভিড রোগীর মধ্যে ২৩৫ জনের শরীরে এই থেরাপির ক্লিনিকাল ট্রায়াল করা হয়। বাকি ২২৯ জনের উপর এই থেরাপির প্রয়োগ হয়নি। দেখা যায়, দুই ক্ষেত্রেই মৃত্যুর হার যথাক্রমে ১৩.৬ শতাংশ (৩৪ জন) এবং ১৪.৬ শতাংশ (৩১ জন)। অর্থাৎ, দু’টি ক্ষেত্রে মৃত্যুর হারে তেমন কোনও পার্থক্যই মেলেনি।
আইসিএমআর জানাচ্ছে, প্লাজমা থেরাপি জরুরি ক্ষেত্রে এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা বিচার করেই করা উচিত। সকলের ক্ষেত্রেই অহেতুক জোর করে এই থেরাপির প্রয়োগ সুফলও নাও আনতে পারে। তাছাড়া গবেষণার পর্যায়ে থাকা একটি পদ্ধতিকে কোভিড চিকিৎসার রুটিন থেরাপি করে ফেললে মুশকিল। অনেক ভেবেচিন্তে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিকে। তার জন্য গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। প্লাজমা থেরাপি হল এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার রক্ত থেকে প্লাজমা নিয়ে আক্রান্তের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। এর একটাই কারণ, সেটা হল সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির রক্তরস বা প্লাজমায় যে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে তাকে বিশেষ পদ্ধতিতে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট করা। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন যিনি তার অ্যান্টিবডি রোগীর শরীরে গিয়েও একইরকম ক্ষমতা দেখাবে বলেই দাবি গবেষকদের। প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের আগে, দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ ও রক্তের আরও কিছু পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। কারণ প্লাজমা থেরাপি সব রোগীর উপরে প্রয়োগ করা নাও যেতে পারে। সংক্রমণের ধরন, উপসর্গ, রোগীদের শারীরিক অবস্থা অনেক কিছু পরীক্ষা করে দেখে তবেই এই থেরাপির প্রয়োগ হতে পারে।