দ্য ওয়াল ব্যুরো : সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি স্যামসুং-এর। করোনা অতিমহামারীর মধ্যে ভারতে স্মার্টফোনের বিক্রি কমেছে ৪৮ শতাংশ। স্মার্টফোন কোম্পানিগুলির মধ্যে যার বিক্রি বিশেষ কমেনি, সে হল অ্যাপল। কিন্তু স্যামসুং-এর যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ভারতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৭৩ লক্ষ স্মার্টফোন।
শুক্রবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে ক্যানালস নামে এক সমীক্ষক সংস্থা জানায়, ভারতে স্মার্টফোনের বাজারে সহজে ক্ষতি সামলে ওঠা সম্ভব হবে না। লকডাউন শিথিল হওয়ার পরে স্মার্টফোনের বিক্রি কিছু বেড়েছিল। কিন্তু স্মার্টফোনের উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। প্রথমত যথেষ্ট সংখ্যক কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত অতিমহামারীর সময় নানা নিয়ম-কানুন মেনে উৎপাদন করতে হচ্ছে। তার ফলে উৎপাদন কমছে।
ভারতের বাজারে সর্বাধিক স্মার্টফোন বিক্রেতা শাওমির বিক্রি কমেছে ৪৮ শতাংশ। একবছর আগে তার মার্কেট শেয়ার ছিল ৩১.৩ শতাংশ। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০.৯ শতাংশ। মোবাইল নির্মাতা সংস্থা ভিভোর বিক্রি কমেছে ৩৬ শতাংশ। কিন্তু বেড়েছে তার মার্কেট শেয়ার। একবছর আগে বাজারের ১৭.৫ শতাংশ ছিল তার দখলে। এখন তার মার্কেট শেয়ার ২১.৩ শতাংশ। স্যামসুং-এর মার্কেট শেয়ার কমেছে ৬০ শতাংশ। ২২.১ থেকে তা কমে হয়েছে ১৬.৮ শতাংশ। রিয়েলমি-কে সরিয়ে স্মার্টফোনের বাজারে চার নম্বর অবস্থানে এসেছে অপ্পো।
অতিমহামারীরত জেরে সামগ্রিকভাবে ভারতের অর্থনীতিতে ঘটছে সংকোচন। তার ফলেই স্মার্টফোন সহ নানা পণ্যের বিক্রি কমেছে। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার বা আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২০ সালে ভারতের প্রতিটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই কাজকর্ম কমবে। অর্থনীতি সংকুচিত হবে ৪.৫ শতাংশ হারে। অর্থনীতির এই সংকোচন ঐতিহাসিক। কারণ নিকট অতীতে ভারতের অর্থনীতির বহর কখনও এভাবে কমেনি। তবে ২০২১ সালে ভারতের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আইএমএফ আশা প্রকাশ করেছে।
২০২১ সালে ভারতের অর্থনীতি ছয় শতাংশ হারে বিকশিত হবে বলে আইএমএফ মনে করে। ২০১৯ সালে ভারতের অর্থনীতি বিকশিত হয়েছিল ৪.২ শতাংশ হারে।
চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতি বিকশিত হবে ৪.৫ শতাংশ হারে। গত এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরকাস্টে বলা হয়েছিল, বিশ্ব অর্থনীতির বিকাশ হবে ৬.৮ শতাংশ। কিন্তু বুধবার তা ১.৯ শতাংশ কমিয়ে দেখানো হয়েছে।
এদিন আইএমএফের চিফ ইকনমিস্ট গীতা গোপীনাথ বলেন, “এখন বিশ্ব জুড়ে যে সংকট চলছে, তা অভুতপূর্ব। আমাদের মতে চলতি বছরে ভারতের অর্থনীতি সংকুচিত হবে ৪.৫ শতাংশ হারে।”
আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২০ সালের প্রথমার্ধে অর্থনীতির ওপরে কোভিড ১৯ মহামারীর যে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। যত তাড়াতাড়ি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছিল, বাস্তবে তা সম্ভব হবে না। চিনে এখন অতিমহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি। আশা করা হচ্ছে সেদেশে চলতি বছরে অর্থনীতির বিকাশ হবে এক শতাংশ হারে। তবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য চিনকে কয়েকটি ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই ওই বিকাশ সম্ভব হবে।