শেষ আপডেট: 5 November 2020 08:31
প্রথম প্রথম বহু অসুবিধা, আপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। এই যাত্রা পথ মোটেও মসৃণ ছিলনা। "প্রাথমিকভাবে, আমার বাবা-মাও আমার এই ক্যারাটে শেখার সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেননি। তাঁরা চেয়েছিলেন ভবিষ্যতে আমি আমার পড়াশোনা নিয়েই যাতে এগিয়ে যেতে পারি। এছাড়া ঠিকমতো প্রশিক্ষণ নেওয়ার অর্থও আমাদের কাছে ছিলনা। তাই লড়াইটা বেশ কঠিন ছিল।" অমৃত জানান।
তাঁদের বাড়ির কাছাকাছি একটি পার্কে একা একাই ক্যারাটে প্র্যাকটিস করতেন অমৃত। পরপর দুই বছর পেশাদারি ক্যারাটেতে তিনি হেরেও যান। কিন্তু হাল ছাড়েননি। তাঁর সেইদিনের সেই অদম্য জেদ, ইচ্ছে, আর অধ্যাবসায়ই আজকের অমৃতকে তৈরি করেছে। তিনি তাঁর পকেটমানি জমিয়ে সপ্তাহে একদিন সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে ইউটিউবে একঘণ্টার জন্যে বিখ্যাত ক্যারাটে শিল্পীদের খেলা দেখতেন। এইভাবেই ধীরে ধীরে নিজের খেলার স্কিলকে বাড়িয়ে তোলেন অমৃত।নিজের যোগ্যতাতেই জাতীয় দলে জায়গা করে নেন এই শিখ তরুণী। অমৃত জানান, " যেহেতু আমি টপার ছিলাম, তাই স্কলারশিপ পেতাম। তার সমস্ত টাকায় আমি আমার ক্যারাটে ট্রেনিংয়ের পেছনে খরচ করতাম।"
দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, ভাল পারফরম্যান্স সত্ত্বেও কৌর টোকিও অলিম্পিকে জায়গা করে নিতে পারেননি। কিন্তু তিনি হার মানতে শেখেননি, তাই ২০২১ এর জন্যে আবার চেষ্টা শুরু করেছেন। গোয়াতে রাষ্ট্রপতি কাপ খেলার সময় তাঁর পায়ের এসিএল ছিঁড়ে যায়। ফলত কমনওয়েলথ গেমে তাঁর আর যাওয়া হয়নি।
করোনা পরিস্থিতি এবং আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে তাঁর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল প্রায়। সেই সময় তাঁর ট্যুইট দেখে সাহায্যের হাত বাড়ান অভিনেতা সনু সুদ। সনু সুদই নিজের দায়িত্বে অমৃতের অপারেশন করান এবং বর্তমানে অমৃত ভাল রয়েছেন। তাঁর নিয়মিত ফিজিওথেরাপি চলছে।
এতকিছুর পরেও কৌর স্বপ্ন দেখছেন পরের বছর ক্যারাটে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করার। ভারতের জন্যে স্বর্ণপদক জিতে প্রথম স্থান অধিকার করার।