দ্য ওয়াল ব্যুরো: জমি সংক্রান্ত ঝামেলায় বাবাকে বেধড়ক মেরেছিল দুষ্কৃতীরা। চোখের সামনে বাবাকে রক্তাক্ত হতে দেখেছিল এক কিশোরী। অপরাধীদের সাজা দেওয়ার অঙ্গীকার থেকেই পরবর্তীকালে জেদী, সাহসী পুলিশ অফিসার। আশির দশকে দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘উড়ান’ তাঁর জীবনের গল্প থেকেই তৈরি। তাঁর কঠোর অনুশাসনকে সমীহ করতেন অধস্তনরা। দেশের প্রথম মহিলা ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি) কাঞ্চন চৌধরি ভট্টাচার্য শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
কিরণ বেদীর পরে দেশের দ্বিতীয় মহিলা আইপিএস কাঞ্চন চৌধরি। প্রথম ডিজিপি। গত ৫-৬ মাস ধরে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। গত ২৬ অগস্ট তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে মুম্বই পুলিশের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, প্রয়াত হয়েছেন কাঞ্চন চৌধরি। মৃত্যুকালে রেখে গেছেন তাঁর স্বামী ও দুই মেয়েকে।
হিমাচলপ্রদেশে জন্ম। পড়াশোনার জন্য দিল্লি ও অমৃতসরে থেকেছেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দ্রপ্রস্থ কলেজ থেকে ইংরাজি সাহিত্য নিয়ে স্নাতক। পরে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স করেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি ইউনিভার্সিটি থেকে। ১৯৭৩ ব্যাচের আইপিএস কাঞ্চন প্রথম মহিলা ডেপুটি জেনারেল ইনস্পেকটর হিসেবে যোগ দেন উত্তরপ্রদেশের বরেলীতে। তিনি উত্তরপ্রদেশের প্রথম ইনস্পেকটর জেনারেলও ছিলেন। পরে উত্তরাঞ্চলের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল হয়েছিলেন। তিনিই প্রথম মহিলা ডিজিপি ছিলেন উত্তরাখণ্ডের। ‘সেন্ট্রাল ইনডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিআইএসএফ)-এর ইনস্পেকটর জেনারেল হিসেবেও যোগ দিয়েছিলেন কাঞ্চন চৌধরি।
৩৩ বছরের কর্মজীবনে নানা স্পর্শকাতর মামলা দক্ষতার সঙ্গে সামলেছিলেন তিনি। ব্যাডমিন্টনে তিনি। জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ মোদী হত্যাকাণ্ড এবং রিলায়্যান্স-বম্বে ডাইং মামলার তদন্তভার ছিল তাঁরই উপরে। ২০০৪ সালে মেক্সিকোয় ইন্টারপোলের বৈঠকে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কাঞ্চন।
সৎ, নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসার কাঞ্চন তাঁর চাকরি জীবনে সাফল্যের জন্য ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুলিশ পদক পেয়েছিলেন। সামগ্রিক ভাবে সব স্তরে অসাধারণ কাজের জন্য রাজীব গান্ধী পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০০৭ সালে অবসর নেওয়ার পর যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে আম আদমি পার্টির টিকিটে হরিদ্বার কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তবে জিততে পারেননি। কাঞ্চন চৌধুরির জীবন অবলম্বনে তাঁর বোন কবিতা চৌধুরী একটি ধারাবাহিক বানিয়েছিলেন ‘উড়ান’। আশির দশকে দূরদর্শনে সেই ধারাবাহিক বেশ জনপ্রিয় হয়। সেখানে অভিনয়ও করেছিলেন কাঞ্চন।
উত্তরাখণ্ড ডিরেক্টর জেনারেল (আইনশৃঙ্খলা) অশোক কুমার বলেছেন, ‘‘খুবই সাধারণ ও নম্র স্বভাবের ছিলেন। ভালো মনের মানুষ ছিলেন। যখন ডিজিপি ছিলেন ওঁর অধীনে আমরা কাজ করেছি। সকলকে স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ দিতেন।’’