দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্লাজমা ব্যাঙ্ক তৈরির সব প্রস্তুতিই হয়ে গেছে। আর দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই দেশের প্রথম প্লাজমা ব্যাঙ্ক চালু হয়ে যাবে দিল্লিতে, সোমবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
দক্ষিণ দিল্লির ইনস্টিটিউট অব লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সেস (আইএলবিএস)-এ প্লাজমা ব্যাঙ্ক খোলা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনা সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠাদের রক্তরস বা প্লাজমা জমা করে রাখা হবে সেখানে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সেই প্লাজমা ব্যবহার করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “করোনা মোকাবিলায় প্লাজমা থেরাপি ‘সঞ্জীবনী বুটি’ না হলেও, এই থেরাপির সুফল দেখা গেছে। গত কয়েকদিনে প্লাজমা দাতাদের খোঁজ চেয়ে অসংখ্য ফোন এসেছে সরকারি দফতরে। সঙ্কটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত প্লাজমা ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হয়েছে, অথচ উপযুক্ত দাতার অভাবে চিকিৎসা পিছিয়ে গেছে। তাই পাকাপাকি ভাবে প্লাজমা ব্যাঙ্ক তৈরিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এপ্রিলের মাঝামাঝি আইএলবিএস ইনস্টিটিউট প্লাজমা থেরাপির ট্রায়াল করার জনয অনুমতি পেয়েছিল। তাই সেখানেই প্লাজমা ব্যাঙ্ক তৈরি করার কাজ চলছে।
https://twitter.com/ArvindKejriwal/status/1277489769644093441
করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির উপর গবেষণা ও ক্লিনিকাল ট্রায়াল অনেক আগেই শুরু করেছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। সেই ট্রায়ালের রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্লাজমা থেরাপিতে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দেশের অন্তত ১০টি রাজ্যের ২১টি হাসপাতালে প্লাজমা থেরাপির ট্রায়াল চলছে। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রের ৫টি হাসপাতাল, গুজরাতের ৪টি হাসপাতাল, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের ২টি করে হাসপাতাল এবং পঞ্জাব, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা ও ছত্তীসগড়ের ১টি করে হাসপাতালে এই প্লাজমা থেরাপির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। সম্প্রতি পঞ্জাবের ফরিদকোটের গুরু গোবিন্দ সিং মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রথমবার কোভিড রোগীর শরীরে প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সাফল্য মিলেছে।
https://twitter.com/msisodia/status/1277497568235143168?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1277497568235143168%7Ctwgr%5E&ref_url=https%3A%2F%2Ftheprint.in%2Fhealth%2Findias-first-plasma-bank-to-come-up-in-delhi-kejriwal-asks-covid-survivors-to-donate%2F450823%2F
প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগের জন্য ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের গাইডলাইনও আছে। প্লাজমা থেরাপি বা কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি (Convalescent Plasma Therapy) হল এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার রক্ত থেকে প্লাজমা নিয়ে আক্রান্তের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। এর একটাই কারণ, সেটা হল সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির রক্তরস বা প্লাজমায় যে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে তাকে বিশেষ পদ্ধতিতে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট করা। ভাইরাসকে হারিয়ে সুস্থ হয়েছেন যিনি তার অ্যান্টিবডি রোগীর শরীরে গিয়েও একইরকম ক্ষমতা দেখাবে বলেই দাবি গবেষকদের। এই পদ্ধতি প্লাজমা এক্সচেঞ্জের থেকে আলাদা।

প্লাজমা এক্সচেঞ্জে আক্রান্তের শরীরের রক্তরস বা প্লাজমার পুরোটাই সুস্থ দাতার প্লাজমা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে এক্ষেত্রে অ্যান্টিবডির জন্যই সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির প্লাজমা ইনজেক্ট করা হবে রোগীর শরীরে। তবে আইসিএমআর জানিয়েছে, প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের আগে, দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ ও রক্তের আরও কিছু পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। কারণ প্লাজমা থেরাপি সব রোগীর উপরে প্রয়োগ করা নাও যেতে পারে। সংক্রমণের ধরন, উপসর্গ, রোগীদের শারীরিক অবস্থা অনেক কিছু পরীক্ষা করে দেখে তবেই এই থেরাপির প্রয়োগ হতে পারে। তার ওপর দাতার শরীরে সংক্রমণ থেকে গেছে কিনা সেটাও নিশ্চিত হওয়া জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও তাঁকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এরপরেও টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তবেই সেই ব্যক্তির প্লাজমা নেওয়া যেতে পারে।
কেজরিওয়াল বলেছেন, দিল্লির লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগে ৩৫ জন কোভিড রোগীর মধ্যে ৩৪ জনই সেরে উঠেছেন। ন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ৪৯ জন কোভিড রোগীর ৪৬ জনই প্লাজমা থেরাপির পর সুস্থ হয়েছেন। করোনা সারিয়ে ওঠাদের প্লাজমা দানের জন্য আবেদনও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।