দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রথম প্লাজমা ব্যাঙ্কের দরজা খুলে গেল। আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লির ইনস্টিটিউট অব লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সেসে (আইএলবিএস)প্লাজমা ব্যাঙ্ক চালু করে দিল দিল্লির সরকার।
করোনার চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি গোটা দেশেই আশা জাগাচ্ছে। দেশের নানা রাজ্যে প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। করোনা সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির প্লাজমা বা রক্তরস আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করেই এই থেরাপি করা যায়। তাই এর জন্য যে প্লাজমা দরকার তা অনেক সময়েই পাওয়া যায় না। এই ঘাটতি মেটানোর জন্যই প্লাজমা ব্যাঙ্ক চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লির কেজরিওয়াল সরকার।
এদিন টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এতদিন প্লাজমা জোগাড় করতে লোকজনকে নানা অসুবিধা পোহাতে হচ্ছিল। সেই সমস্যা এবার মিটবে বলেই মনে করা হচ্ছে। করোনা সারিয়ে সুস্থ হলেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে ও নির্দেশিকা মেনে প্লাজমা দান করুন। তাহলে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।”
https://twitter.com/ArvindKejriwal/status/1278577065655033858
প্লাজমা দান করতে হলে দাতাদের কী কী নিয়ম মানতে হবে তার জন্য বিস্তারিত গাইডলাইন সামনে এনেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ১৮ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সী যাঁরা করোনা সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ও টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এবং ক্রনিক রোগ নেই তাঁরা প্লাজমা দান করতে পারেন। তবে দেহের ওজন অবশ্যই ৫০ কিলোগ্রামের বেশি হতে হবে।
প্লাজমা দানের গাইডলাইন সবিস্তারে জানানো হয়েছে আম আদমি পার্টির অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে—
১) করোনা সংক্রমণ সম্পূর্ণ সেরে যাওয়ার পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় চূড়ান্ত পর্যায়ের টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এলেই প্লাজমা দান করা যাবে।
২) প্লাজমা দানের আগে দাতাকে আরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি কোনওরকম উপসর্গ বা সিম্পটম্প দেখা না দেয় তাহলেই তাঁকে প্লাজমা দানের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
৩)ডায়াবেটিসের রোগী যাঁরা ইনসুলিন নেন এবং ক্যানসারের রোগীরা প্লাজমা দানের উপযুক্ত নন।
https://twitter.com/AamAadmiParty/status/1278587806835593216?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1278587806835593216%7Ctwgr%5E&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.ndtv.com%2Fdelhi-news%2Findias-first-plasma-bank-opens-in-delhi-who-can-donate-other-rules-arvind-kejriwal-gives-dos-donts-2255779
৪) উচ্চরক্তচাপের সমস্যা থাকলে প্লাজমা দান করা যাবে না।
৫) হাইপারটেনশন, ক্রনিক কিডনির রোগ, লিভার ও ফুসফুসের কোনও রকম রোগ বা সংক্রমণ, হার্টের রোগ থাকলে প্লাজমা দান করা যাবে না।
৬) প্লাজমা দানের আগে দিল্লি সরকারের টোল ফ্রি নম্বর ১০৩১-এ ফোন করে নাম নথিভুক্ত করাতে হবে। ৮৮০০০০৭৭২২ এই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও নাম, পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে নাম রেজিস্টার করাতে হবে। এর পরেও ডাক্তাররা পরীক্ষা করে সবকিছু সঠিকভাবে দেখে নেবেন।
কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপিতে (Convalescent Plasma Therapy) সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার রক্ত থেকে প্লাজমা নিয়ে আক্রান্তের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। এর একটাই কারণ, সেটা হল সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির রক্তরস বা প্লাজমায় যে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে তাকে বিশেষ পদ্ধতিতে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট করা। ভাইরাসকে হারিয়ে সুস্থ হয়েছেন যিনি তার অ্যান্টিবডি রোগীর শরীরে গিয়েও একইরকম ক্ষমতা দেখাবে বলেই দাবি গবেষকদের। এই পদ্ধতি প্লাজমা এক্সচেঞ্জের থেকে আলাদা। প্লাজমা এক্সচেঞ্জে আক্রান্তের শরীরের রক্তরস বা প্লাজমার পুরোটাই সুস্থ দাতার প্লাজমা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে এক্ষেত্রে অ্যান্টিবডির জন্যই সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির প্লাজমা ইনজেক্ট করা হবে রোগীর শরীরে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা লাগবে প্লাজমা দান করতে। সামান্য দুর্বল লাগতে পারে তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটা ঠিক হয়ে যাবে। প্লাজমা দাতাদের সরকারের তরফে সার্টিফিকেটও দেওয়া হবে।