দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেরাম ইনস্টিটিউট, ভারত বায়োটেক, জাইদাস ক্যাডিলার সঙ্গে পাল্লা দিতে চলে আসছে পুণের আরও এক বায়োটেকনোলজি কোম্পানি। এই প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আরএনএ টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে। মোডার্না, ফাইজারের মতোই বার্তাবহ বা মেসেঞ্জার আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)নিয়ে টিকা তৈরি করেছে পুণের জেনোভা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। মানুষের শরীরে এই টিকা দেওয়ার জন্য ছাড়পত্রও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা।
মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এইচডিটি বায়োটেক কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে টিকা বানিয়েছে জেনোভা। তবে টিকার ডিজাইন সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতেই তৈরি। এতদিন ল্যাবরেটরিতে এই টিকার প্রি-ক্লিনিকাল পর্ব চলছিল। এই পর্বে পশুদের শরীরে টিকার ডোজ দিয়ে তার সুরক্ষা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। টিকার ডোজে যদি কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না দেখা দেয় তবেই তার রিপোর্ট জমা করা যায় ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটিতে। এরপরেও আরও কয়েক ধাপে টিকার সুরক্ষা যাচাই করা হয়। টিকা নিরাপদ তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরেই মানুষের শরীরে প্রয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
টিকার ট্রায়ালের দায়িত্বে থাকা সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি (এসইসি) জানিয়েছে, জেনোভার টিকার ট্রায়াল পশুদের শরীরে সফল। টিটার যাবতীয় তথ্য খুঁটিয়ে দেখেই প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে হিউম্যান ট্রায়ালে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA)সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট HGCO19 তৈরি করেছে জেনোভা। মেসেঞ্জার আরএনএ হল কোষের বার্তাবাহক। কোন কোষে কী প্রোটিন তৈরি হচ্ছে, তার জিনগত তথ্য বা জেনেটিক কোড শরীরের নির্দিষ্ট কোষে পৌঁছে দেওয়াই এর কাজ। আরএনএ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন দিয়েই এই ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। এমআরএনএ সিকুয়েন্সকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যাতে দেহকোষে ঢুকলে সেটি ভাইরাল প্রোটিনের মতো প্রোটিন তৈরি করতে কোষকে উদ্দীপিত করতে পারে। ভ্যাকসিনে থাকা জিনের বিন্যাস দেখে দেহকোষও একই রকম স্পাইক প্রোটিন তৈরি করবে। তখন সেই প্রোটিনকে ঠেকাতে শরীরের ইমিউন কোষ তথা বি-কোষ ও টি-কোষ সক্রিয় হয়ে উঠবে। বি-কোষ থেকে প্লাজমা বা রক্তরসে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে।
জেনোভা জানিয়েছে, তাদের তৈরি টিকার আরও একটা বিশেষত্ব হল সাধারণ ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও এই টিকা সংরক্ষণ করা যাবে। ফাইজারের মতো মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার দরকার পড়বে না। ভ্যাকসিন সংরক্ষণের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই ২-৩ মাস তাজা থাকবে এই টিকা। আলাদা করে কোল্ড-স্টোরেজ বানানোর দরকার পড়বে না।