
শেষ আপডেট: 23 February 2023 10:10
৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের এই গাড়িটি চালনা করা যাবে কন্ট্রোল রুম থেকে। আবার প্রয়োজনে রিমোট কন্ট্রোল এবং মোবাইল থেকেও অপারেট করা যাবে এই সাঁজোয়া গাড়িকে। পেট্রল ইঞ্জিন রয়েছে এই গাড়িতে। এর কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স। গাড়ির নেভিগেশন, অস্ত্র চালনা, নিশানা স্থির করা, আচমকা আক্রমণ হলে তাকে প্রতিরোধ করা, শত্রুপক্ষের গুলি, মিসাইল রুখে দেওয়া—এই সাঁজোয়া গাড়ির কাজ অনেক।
হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল) এবং ডিআরডিও-র যৌথ উদ্যোগে এমন গাড়ির নকশা বানিয়েছিল ডিফেন্স মাস্টার ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। ডেনিস ইবানেজার বলেছেন, এই সাঁজোয়া গাড়িতে মেশিন গান বসানো থাকবে, ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী গাইডেড মিসাইলও লোড করা হবে। থাকবে ড্রোন। সঠিক নিশানা লাগানোর জন্য এই গাড়িটিতে কাজ করবে আর্টিফিশিয়াল সুপার ইনটেলিজেন্স NIVATA। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোরেই এটি জঙ্গিদের গোপন ডেরাও খুঁজে বার করতে পারবে। প্রয়োজনে মিসাইল ছুঁড়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারবে জঙ্গি ঘাঁটি।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সুরান’ মূলত টেলি-অপারেটেড আনম্যানড কমব্যাট ভেহিকল যা কাজ করবে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের উপর ভিত্তি করে। এতে রয়েছে লং-রেঞ্জ ক্যামেরা, কন্ট্রোলার, হাই-এনড প্রসেসর, সেন্সর, পাওয়ার ব্যাকআপ ইত্যাদি। তিনভাবে চালনা করা যাবে এই সাঁজোয়া গাড়ি—রিমোর্ট কন্ট্রোলের সাহায্যে, মোবাইল থেকে টেলি-অপারেট করা যাবে এবং অটোনোমাস সিস্টেম বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এটি নিজের কাজ নিজেই করতে পারবে।
এপ্রিলের মাঝামাঝি এমন রণসাজে সজ্জিত গাড়ি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে যোগ হবে। ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াতে সীমান্তে রোবট-সেনা মোতায়েন করার ভাবনাও দীর্ঘদিনের। তার জন্যও কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছিল সেনা সূত্র। প্রাথমিক ভাবে ৫৫০টি রোবোটিক্স ইউনিট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রোবটগুলির কার্যক্ষমতা থাকবে অন্তত ২৫ বছর। ভারতীয় সেনার এক উর্ধ্বতন কর্তার কথায়, এই রোবটগুলি আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। এরা যেমন সিঁড়ি ভাঙতে পারবে দ্রুত, তেমনিই গাছে চড়তে পারবে অসাধারণ ক্ষিপ্রতায়। সেনাবাহিনীকে ঠিক যেমন ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ঠিক তেমনই ডেটা ইনপুট করা হবে এদের সিস্টেমে। আগুনের মধ্যে ঝাঁপ দিতে পারবে, জলে নামতে পারবে, গ্রেনেড বা যে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ছুড়েও কাবু করা যাবে না এই রোবট-সেনাদের। যতরকম ভাবেই বাধার প্রাচীর গড়ে তুলুক না কেন জঙ্গিরা, অনায়াসে তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে এই রোবট-বাহিনী।