দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাতার শরীর থেকে বার করার পরেও শ্বাস নিতে থাকবে ফুসফুস, তার পরে ওই অবস্থাতেই সেটি বসানো যাবে গ্রহীতার শরীরে। এর ফলে যেমন কমবে প্রতিস্থাপনের ঝুঁকি, তেমনি নষ্টও কম হবে ফুসফুস। সম্প্রতি হায়দরাবাদের কৃষ্ণা ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসেস এমনটাই দাবি করেছে, এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরে।
গতকাল, শনিবার এই ইনস্টিটিউটেই এমনই একটি ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে চিকিৎসক সন্দীপ আতাওয়ারের নেতৃত্বে। তিনি জানিয়েছেন, ছ’মাস ধরে এই প্রযুক্তি গুলে খেয়েছেন তাঁরা। তার পরেই তা প্রয়োগ করা হয়েছে সফল ভাবে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করলে অঙ্গ নষ্ট হওয়ার প্রবণতা অন্তত ৩০ শতাংশ কমবে।
প্রসঙ্গত, এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া এতদিন আমেরিকা এবং কানাডায় চালু ছিল। তবে এবার তা পা রাখল ভারতেও। সাম্প্রতিক কোভিড প্যানডেমিকে ফুসফুসের অসুখ অত্যন্ত বেড়েছে। চিকিৎসা এবং প্রতিস্থাপন দুইয়েরই প্রয়োজন পড়ছে অনেক বেশি সংখ্যায়। এমনই সময়ে এই নতুন প্রক্রিয়ায় বহু রোগী প্রাণে বাঁচবেন বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
কীভাবে কাজ করছে এই যন্ত্র?
যন্ত্রটির নাম অরগ্যান রিকন্ডিশনিং বক্স। জানা গেছে, ফুসফুস সংগ্রহের পরে এই যন্ত্রের ভিতর সেটিকে রাখা হলে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি, অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য জরুরি তরলের সাহায্যে এটি অনেক বেশিক্ষণ তাজা থাকবে। একই সঙ্গে ভেন্টিলেশনের সাহায্যে কৃত্রিম ভাবে শ্বাস নেওয়ানো হবে ফুসফুসটিকে। বাড়ানো হবে ফুসফুসের কাজ করার ক্ষমতাও। ফলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির জন্য অনেকটা বেশি সময় পাবেন। এতে প্রতিস্থাপন সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। কারণ ফুসফুসটি যখন গ্রহীতার শরীরে বসানো হবে, তা আরও ভাল অবস্থায় থাকবে। রোগীর শরীর তা সহজে গ্রহণ করতে পারবে।
বস্তুত, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের একটা বড় চ্যালেঞ্জ এটাই। দাতার দেহ থেকে নেওয়া ফুসফুস গ্রহীতার শরীর গ্রহণ করবে কিনা, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা। এর মূল কারণ হল অঙ্গ নষ্ট হয়ে যাওয়া। দাতার শরীর থেকে বার করে গ্রহীতার শরীরে বসানোর সময়টুকু যত কম করা যাবে, ততই সংক্রমণের সম্ভাবনা কম। অনেক ক্ষেত্রেই ফুসফুস হাতে পেতে পেতেই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তা কোনও কাজে লাগে না। এবার সেই সমস্যা খানিক কমবে। প্রতিস্থাপন সফল হওয়ার হার বাড়বে, বাড়বে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা।