দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি কমেছে ২৩.৯ শতাংশ। কিন্তু মঙ্গলবার শোনা গেল সুসংবাদ। করোনার ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে সচল হয়ে উঠছে বিভিন্ন কারখানা। দেশের বাজারে চাহিদার ওপরে ভিত্তি করে বাড়ছে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের উৎপাদন। যদিও বিভিন্ন সংস্থা এখনও কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রেখেছে। বেসরকারি সংস্থা দি আইএইচএস মার্কিট-এর সমীক্ষায় জানা গিয়েছে একথা।
ইন্ডিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স জুলাই মাসে উঠেছিল ৪৬ পয়েন্ট পর্যন্ত। অগাস্টে তা উঠেছে ৫২ পয়েন্ট। আইএইচএস মার্কিট-এর সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতিবিদ শ্রেয়া পটেল বলেন, "দেশীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্যই ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে উৎপাদন বেড়েছে। অর্থনীতির এই সেক্টরে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।" একইসঙ্গে শ্রেয়া পটেল জানান, অতিমহামারীর মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের ডেলিভারি টাইম বেড়েছে।
সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতেই ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন দেশের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কে ভি সুব্রমনিয়ম। তিনি সোমবার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির বিকাশ তলানিতে পৌঁছানোর পরে ফের ঘুর দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে। রেলে বেড়েছে পণ্য পরিবহণ। বিদ্যুতের ব্যবহারও বেড়েছে।
তাঁর কথায়, "একসময় কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছিল। আমরা জানতাম এর ফলে বিকাশের হার কমবে। কিন্তু আশার কথা হল, অর্থনীতির ফের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা দিয়েছে।" এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেলে কী পরিমাণে পণ্য পরিবহণ করা হচ্ছে, তা থেকে আন্দাজ করা যায় অর্থনীতির হাল কেমন। বর্তমানে রেলে পণ্য পরিবহণের পরিমাণ গত বছর জুলাই মাসের ৯৫ শতাংশ। গত বছর অগাস্টের তুলনায় এবছর অগাস্টের প্রথম ২৬ দিনে পণ্য পরিবহণ হয়েছে ছয় শতাংশ বেশি। বিদ্যুতের চাহিদাও গত বছরের তুলনায় মাত্র ১.৯ শতাংশ কম।
গত অগাস্টে গাড়ি শিল্পেরও ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত অগাস্ট মাসে মারুতি-সুজুকির গাড়ি বিক্রি হয়েছে মোট ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৭০৪ টি। ২০১৯ সালের অগাস্টে ওই সংস্থার গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ৯৪ হাজার ৭২৮ টি। অর্থাৎ করোনা অতিমহামারীর ধাক্কায় যখন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বেহাল, তখনই বিক্রি বাড়িয়েছে মারুতি-সুজুকি।
গত মাসে মিনি এবং কমপ্যাক্ট সাব সেগমেন্টের গাড়িই বেশি বিক্রি করেছে মারুতি-সুজুকি। অগাস্টে ইউটিলিটি ভেহিকলও ভাল বিক্রি হয়েছে। ইউটিলিটি ভেহিকলের মধ্যে আছে ২০২০ ভিতারা ব্রেজ্জা, নতুন লঞ্চ করা গাড়ি ২০২০ এস-ক্রস, এরতিগা এবং এক্সএলসিক্স। অগাস্টে ইউটিলিটি গাড়ির বিক্রি বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ।