
শেষ আপডেট: 12 April 2023 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনার টিকাকরণ (Covid Vaccination) খুব ভাল হয়েছে। সংক্রমণের তীব্রতা অনেকটাই কমেছে। কিন্তু ভ্যাকসিনের ইমিউনিটি (Immunity) বেশিদিন থাকছে না। এমনটাই বললেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-এর কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান ডা. রাজীব জয়দেবন।
কোভিড বিশেষজ্ঞ বলছেন, ওমিক্রনের (Omicron) নতুন উপপ্রজাতিরা তাণ্ডব শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে, সেই সঙ্গেই বাড়ছে এক্সবিবি (XBB Variant) ভ্যারিয়ান্টের দাপট। বিশ্বজুড়েই ফের সংক্রমণের নতুন ঢেউ এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই রেশ পৌঁছেছে ভারতেও। ১২টি দেশে ছড়িয়েছে করোনার এই নতুন প্রজাতি, নাম এক্সবিবি.১.১৬ (XBB.1.16)। এই নতুন ভ্যারিয়ান্ট হল করোনা এক্সবিবি (XBB) প্রজাতির জিনগতভাবে পরিবর্তিত (Genetically Mutated) রূপ। এই প্রজাতিকে ওমিক্রনের এক্সবিবি উপরূপেরই নিকট আত্মীয় বলা যেতে পারে। ওমিক্রনের BA.2.10.1 এবং BA.2.75 উপপ্রজাতির সঙ্গে এর অনেক মিল আছে। বিশেষজ্ঞদের তাই অনুমান, ওই দুই উপপ্রজাতি বদলে গিয়েই এই নয়া রূপ তৈরি করেছে।
করোনার এই ভ্যারিয়ান্টের সংক্রমণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যাচ্ছে। শরীরে অ্যান্টিবডির মাত্রা কমছে। মাত্র দুটি ভ্যাকসিনের ডোজ এই প্রজাতিকে কাবু করার জন্য যথেষ্ট নয়। ডা. রাজীবের মতে, যাঁরা ৬ মাস আগে বা তারও আগে দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার নিয়েছেন, তাঁদের আরও একবার বুস্টার নিয়ে রাখলে ভাল। এতে অ্যান্টিবডির মাত্রা ফের বাড়বে। যদিও তাতে করোনা হবে না এমন গ্যারান্টি দেওয়া যায় না, তবে সংক্রমণে জটিল অসুখের সম্ভাবনা থাকবে না।
করোনায় বাচ্চাদের নতুন উপসর্গ, লক্ষণ চিনে কীভাবে সাবধান হবেন গাইডলাইন দিচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক
এই ভাইরাসের জিনের গঠন বদলাতে থাকে, র্যান্ডম মিউটেশন হয়। এত বেশি বার ভাইরাসের রূপ বদলায় যে একে কব্জা করা খুবই জটিল ব্যাপার। তবে আরএনএ টেকনোলজিতে তৈরি ভ্যাকসিন ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের ওপর কার্যকরী বলে দাবি করা হয়েছে। টিকাকরণের গতি বাড়ালে হার্ট ইমিউনিটি তৈরি হওয়া সম্ভব। তারও একটা নিয়ম আছে। কোভিডের পরবর্তী ওয়েভগুলি আসার আগেই এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলছেন,গত পাঁচ সপ্তাহে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। করোনা মহামারী শেষ হতে এখনও বহু দেরি। এখনই করোনা থেকে মুক্তির কোনও সম্ভাবনা নেই। গত এক বছরে করোনা মোকাবিলায় অনেক নতুন শিক্ষা লাভ হয়েছে। বোঝা গেছে যে, শুধু ৭০ শতাংশ দেশবাসীকে টিকা দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করলেই হবে না। আগে তাঁদের টিকা বা বুস্টার ডোজ দিতে হবে যাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তা না হলে করোনায় মৃত্যু বাড়তেই থাকবে। ভ্যাকসিনেশনের প্রায় এক বছর পরে যদি এই বুস্টার দেওয়া হয়, তাহলে আবারও শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে, আরও কয়েকমাস ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে।