দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে কংগ্রেস নেতা স্যাম পিত্রোদা বালাকোটে বায়ুসেনার বিমান হানা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। শুক্রবার সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেসকে। তাঁর দাবি, বিরোধীরা সব সময়ই সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন করে। তারা বার বার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে অপমান করে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী টুইটে লিখেছেন, কংগ্রেস সভাপতির সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য উপদেষ্টা দলের তরফে পাকিস্তানের জাতীয় দিবস উদযাপন করলেন। সেই উপলক্ষে তিনি ভারতের সশস্ত্র শক্তিকে অপমান করেছেন। খুবই লজ্জার কথা।
https://twitter.com/narendramodi/status/1108965519082684416
স্যাম পিত্রোদা কংগ্রেসের বিদেশ শাখার প্রধান। দলের ইস্তেহার রচনার জন্য যে কমিটি আছে তাতেও তিনি আছেন। বিজেপির দাবি, ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে বায়ুসেনার হানায় ৩০০ সন্ত্রাসবাদী মারা পড়েছে। পিত্রোদা বলেছিলেন, তথ্য দিয়ে একথা প্রমাণ করুন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, পুলওয়ামায় হামলার জন্য পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে দোষ দেওয়া কি ঠিক?
মুম্বইয়ে ২৬/১১-র হামলার কথা তুলে তিনি বলেন, মাত্র আটটা লোক এসে যদি কিছু ঘটায়, তুমি পুরো জাতিকে তার জন্য দায়ী করতে পার না। কেউ যদি বলে, কয়েকজন এসে হামলা করেছে বলে একটা দেশের সবাইকে দোষারোপ করা যায়, তাহলে সে বোকা। আমি এমন মনে করি না।
একটি সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় স্যাম পিত্রোদা এই মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে বলেন, এ হল আমার ব্যক্তিগত মত। দলের মত নয়। আমি একজন নাগরিক হিসাবে এই মত প্রকাশ করছি। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি মনে করেন পুলওয়ামার ঘটনার পরে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল? তিনি বলেন, পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে আমি বিশেষ কিছু জানি না। আক্রমণ প্রায়ই হয়। মুম্বইয়ের তাজ হোটেল, ওবেরয় হোটেলেও হামলা হয়েছিল। আমরা সেবারেও পাকিস্তানে প্লেন পাঠাতে পারতাম। কিন্তু আমি মনে করি না ওইভাবে সমস্যার মোকাবিলা করা যায়।
বালাকোট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের আবেগপ্রবণ হওয়া উচিত নয়। তথ্য সব সময় নিরপেক্ষ। কেউ কেউ বলছে, আমি ৩০০ মানুষকে মেরেছি। কিন্তু সারা বিশ্ব বলছে আমরা কাউকে মারিনি। আসলে কী ঘটেছিল? আমি জানি না।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেসের মনমোহন সিং দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীদের একজন।
সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব বলেছেন, পুলওয়ামার ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্র ছিল। মোদী তার জবাবে বলেছেন, রামগোপালজির মতো প্রবীণ নেতা যা বলেছেন, তা খুবই নিন্দনীয়। কাশ্মীর রক্ষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তিনি তাঁদের অপমান করলেন।