দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশে গিয়ে গরুর মাংস খাচ্ছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা! এই নিয়ে ভারী চিন্তিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। তাই এই ‘অনাচার’ রুখতে তিনি নিদান দিলেন, স্কুল স্তর থেকে গীতাপাঠ করাতে হবে পড়ুয়াদের! তাহলেই নাকি তারা নিজেদের দেশের সংস্কৃতি বুঝতে পারবে এবং বিদেশে গিয়ে গরুর মাংস খাবে না।
বিতর্কিত মন্তব্য করার কারণে এমনিতেই বারবার সামনে আসে বিজেপির সাংসদ গিরিরাজ সিংয়ের নাম। কয়েক দিন আগেই তিনি বলেছিলেন, “মুঘল এবং ব্রিটিশরা যা করতে পারেনি, কংগ্রেস, তাদের টুকরে টুকরে গ্যাং এবং আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মিলে সেটাই করতে চাইছে। তারা ভারতে যুদ্ধ চায়।” এবার নতুন বছরের গোড়াতেও ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন তিনি।
বুধবার গিরিরাজ সিং বলেন, “এখনকার অভিভাবকেরা সন্তানকে মিশনারি স্কুলে পড়তে পাঠান। তার পরে তারা আইআইটি পাশ করে ইঞ্জিনিয়ার হয়, কেউ জেলাশাসক হন, কেউ আবার বিদেশে চলে যায়। আর বিদেশে গিয়েই বেশিরভাগ ভারতীয় গরুর মাংস খায়। কারণ তারা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানেই না।”
এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য স্কুলে ভগবতগীতা পাঠের পক্ষে সরব হলে মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “হনুমান চল্লিশা যদি ১৫টি বাড়িতে পাওয়া যায়, তবে রামায়ণ, মহাভারত পাওয়া যাবে মাত্র ৩টি বাড়িতে। এই কারণেই আমাদের সন্তানেরা ভারতীয় সংস্কৃতি সম্বন্ধে অবগত হয় না। ফলে তারা বিদেশে গিয়ে ‘অনাচার’ করে।”
শুধু তাই নয়। দেশজুড়ে কেন নববর্ষ পালনের এত রমরমা, তার বিরুদ্ধেও মন্তব্য করেন গিরিরাজ। তিনি টুইট করেন, “আমাদের নববর্ষ এটা নয়। আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বী, প্রভু শ্রীরামের বংশধর।”
তবে গোমাংস নিয়ে এই ধরনের বিতর্ক ও অতি রক্ষণশীল মনোভাব শাসকদলের পক্ষে নতুন কিছু নয়। দেশবাসী প্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে গোমাতাকে রক্ষা করার জন্য অতিসক্রিয় সব পদক্ষেপের। কখনও ফ্রিজে গোমাংস থাকার অপরাধে গণপিটুনিতে খুন হয়েছেন নিরীহ মানুষ, কখনও বা গরুর দেহাবশেষ পড়ে থাকা নিয়ে কার্যত দাঙ্গা বেঁধে গিয়েছে দেশের কোনও প্রান্তে।
এত কিছুর পরেও নাকি গোহত্যা আটকানো যাচ্ছে না, এমনটাই মনে করছেন সনাতন হিন্দুত্ববাদীরা। এই পরিস্থিতিতে গোমাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে ফের সুর চড়ালেন বিজেপির মন্ত্রী। তবে দেশের মাটিতে নয়, বিদেশের মাটিতেও খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে মানুষের স্বাধিকারের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন তিনি।