Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ক্রাইস্টচার্চে সুখের সংসার শুরু করেছিলেন নবদম্পতি, রক্তে ভেসে গেল স্বপ্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী জীবনের পরিকল্পনায় বুঁদ হয়ে ছিলেন নবদম্পতি। টাকাপয়সা ধার করে গত বছরেই নিউজ়িল্যান্ড পৌঁছেছিলেন তাঁরা। তরুণী খোঁজ নিয়েছিলেন, এগ্রিবিজ়নেস ম্যানেজমেন্ট সে দেশের খুবই আশাজনক পেশা। তাই সে বিষয়েই মাস্টার্স ডিগ্রি করতে শুর

ক্রাইস্টচার্চে সুখের সংসার শুরু করেছিলেন নবদম্পতি, রক্তে ভেসে গেল স্বপ্ন

শেষ আপডেট: 18 March 2019 14:14

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী জীবনের পরিকল্পনায় বুঁদ হয়ে ছিলেন নবদম্পতি। টাকাপয়সা ধার করে গত বছরেই নিউজ়িল্যান্ড পৌঁছেছিলেন তাঁরা। তরুণী খোঁজ নিয়েছিলেন, এগ্রিবিজ়নেস ম্যানেজমেন্ট সে দেশের খুবই আশাজনক পেশা। তাই সে বিষয়েই মাস্টার্স ডিগ্রি করতে শুরু করেছিলেন তিনি। আর ছেলেটি স্থানীয় সুপারমার্কেটে কাজ করতেন, রোজকার খরচ চালানোর টাকা জোগাড় করার জন্য। হিসেব মতোই চলছিল আবদুল নাসের ও আনসি আলিবাভার বিবাহিত জীবন। আদতে কেরালার বাসিন্দা, এই নবদম্পতি ঠিক করেছিলেন, নিউজ়িল্যান্ডে পড়াশোনা শেষ করে, কিছু দিন চাকরি করে, পয়সাকড়ি জমিয়ে, দেশে ফিরবে তারা। ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় স্বপ্নের মতো ছোট্ট সংসার পেতেছিলেন দু'জনে মিলে। কিন্তু সে স্বপ্ন যে ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে বসেছে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি আবদুল-আনসি। ভাবলে, শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে যেতেনই না তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ত্রাসবাদী বন্দুকবাজের হামলায় যে ৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আনসি আলিবাভা। আবদুলের ২৫ বছরের স্ত্রী। এখনও চমকে চমকে উঠছেন ৩৪ বছরের আবদুল। শুক্রবারের পর থেকে কার্যত ঘুমোতে পারেননি একটুও। কথাও বলতে পারছেন না ভাল করে। জানা গেল, শুক্রবার ভয়াবহ গুলিকাণ্ড ঘটার সময়ে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদের ভিতরে স্ত্রীয়ের সঙ্গে ছিলেন আবদুল। প্রার্থনা করছিলেন তাঁরা, প্রত্যেক শুক্রবারের মতোই। আচমকা গুলির শব্দে খানখান হয়ে যায় নিস্তব্ধতা। "আমি প্রথম শব্দটা শুনেই চমকে গেছিলাম। কিন্তু ভেবেছিলাম, বাচ্চারা হয়তো দুষ্টুমি করছে। খেলতে গিয়ে কিছু ফাটিয়েছে মসজিদের বাইরে। কিন্তু তার পরেই যেটা শুরু হল, বুঝলাম বড় বিপদে পড়েছি আমরা। তত ক্ষণে মসজিদের ভিতরের শ'তিনেক মানুষ বেরিয়ে পালানোর জন্য ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছেন।"-- বললেন আবদুল। আবদুল আরও জানালেন, তিনি এমার্জেন্সি এক্সিটের পাশেই ছিলেন। কেউ এক জন ধাক্কা দিয়ে কাচ ভাঙার পরেই সকলে বেরোতে শুরু করেন। স্ত্রী আনসি-কে নিয়ে ছিটকে বেরোতে যান আবদুলও। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান তিনি। হাত ছেড়ে যায় আনসিরও। আবদুলের উপরেই অনেকে পড়ে যান। তত ক্ষণে গোটা মসজিদ জুড়ে লুটিয়ে পড়ছেন রক্তাক্ত মানুষ। কোনও রকমে মসজিদ থেকে বেরোতে পারেন আবদুল। ছুটে গিয়ে আশ্রয় নেন পাশেই এক বাসিন্দার বাড়িতে। কিন্তু আনসি! আনসি কোথায়! পুলিশে ফোন করেন আবদুল। জানান আনসির কথা। পুলিশ জানায়, বহু মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মসজিদ চত্বরে। কাউকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। ফের মসজিদে ছুটে যান আবদুল। "পৌঁছেই থমকে যাই আমি। স্তম্ভিত হয়ে যাই। রক্তের সমুদ্রে এদিক ওদিক লুটিয়ে পড়ে আছে দেহ। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন অনেকে। পাগলের মতো আনসি-কে খুঁজছিলাম আমি। আচমকা দেখতে পেলাম। উপুড় হয়ে মাটিতে মুখ গুঁজে পড়ে ছিল ও। দৌড়ে গেলাম, পুলিশ আটকে দিল। ছুঁতেও পারলাম না ওকে এক বার। পরে জানলাম, যে ৫০ জন খুন হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আনসি-ও রয়েছে।"-- বললেন আবদুল। প্রথমে আবদুল ভেবেছিলেন, কোথাও কোনও ভুল হচ্ছে। হয়তো আনসি মারা যাননি, হাসপাতালে আছেন। হয়তো কোনও মিরাকেল ঘটেছে। কিন্তু না, তেমন কিছুই ঘটেনি। মৃতদের আনসি-র তালিকায় নাম ও ছবি প্রকাশ করে নিউজ়িল্যান্ড সরকার। ২০১৭ সালে বিয়ে করেছিলেন আবদুল ও আনসি। কিন্তু তাঁদের বন্ধুবান্ধবেরা সকলেই বলছেন, ওঁদের ভালবাসা বন্ধুবান্ধবদের কাছে আলোচ্য বিষয় ছিল। ইউনিভার্সিটিতে আনসি-র বেস্ট ফ্রেন্ড তালি আও বলছিলেন, "ওরা যখন নিউজ়িল্যান্ডে এসে থাকতে শুরু করল তখন থেকে ওদের চিনি আমি। ওরা একে অপরকে আবিষ্কার করছিল। কী খুশি ছিল ওরা! আনসি ছাত্রী হিসেবেও খুব ভাল ছিল। প্রফেসররা সকলে ভালবাসতেন ওকে।" সোমবার তাদের ইউনিভার্সিটিতে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয় আনসি-র স্মৃতিতে। ঘটনার পরে তিন দিন কেটেছে। ক্রাইস্টচার্চ এলাকার কেরালা-কমিউনিটি আবদুলকে আগলে রেখেছে। আবদুল বললেন, "আনসির অনেক স্বপ্ন ছিল। ও গোটা জীবনটা আনন্দে বাঁচতে চেয়েছিল। ও খুব ভাল মানুষ ছিল। এরকম যেন কারও সঙ্গে না-হয় আর।"

```