
শেষ আপডেট: 18 March 2019 14:14
আবদুল আরও জানালেন, তিনি এমার্জেন্সি এক্সিটের পাশেই ছিলেন। কেউ এক জন ধাক্কা দিয়ে কাচ ভাঙার পরেই সকলে বেরোতে শুরু করেন। স্ত্রী আনসি-কে নিয়ে ছিটকে বেরোতে যান আবদুলও। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান তিনি। হাত ছেড়ে যায় আনসিরও। আবদুলের উপরেই অনেকে পড়ে যান। তত ক্ষণে গোটা মসজিদ জুড়ে লুটিয়ে পড়ছেন রক্তাক্ত মানুষ। কোনও রকমে মসজিদ থেকে বেরোতে পারেন আবদুল। ছুটে গিয়ে আশ্রয় নেন পাশেই এক বাসিন্দার বাড়িতে। কিন্তু আনসি! আনসি কোথায়!
পুলিশে ফোন করেন আবদুল। জানান আনসির কথা। পুলিশ জানায়, বহু মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মসজিদ চত্বরে। কাউকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। ফের মসজিদে ছুটে যান আবদুল। "পৌঁছেই থমকে যাই আমি। স্তম্ভিত হয়ে যাই। রক্তের সমুদ্রে এদিক ওদিক লুটিয়ে পড়ে আছে দেহ। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন অনেকে। পাগলের মতো আনসি-কে খুঁজছিলাম আমি। আচমকা দেখতে পেলাম। উপুড় হয়ে মাটিতে মুখ গুঁজে পড়ে ছিল ও। দৌড়ে গেলাম, পুলিশ আটকে দিল। ছুঁতেও পারলাম না ওকে এক বার। পরে জানলাম, যে ৫০ জন খুন হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আনসি-ও রয়েছে।"-- বললেন আবদুল।
প্রথমে আবদুল ভেবেছিলেন, কোথাও কোনও ভুল হচ্ছে। হয়তো আনসি মারা যাননি, হাসপাতালে আছেন। হয়তো কোনও মিরাকেল ঘটেছে। কিন্তু না, তেমন কিছুই ঘটেনি। মৃতদের আনসি-র তালিকায় নাম ও ছবি প্রকাশ করে নিউজ়িল্যান্ড সরকার।
২০১৭ সালে বিয়ে করেছিলেন আবদুল ও আনসি। কিন্তু তাঁদের বন্ধুবান্ধবেরা সকলেই বলছেন, ওঁদের ভালবাসা বন্ধুবান্ধবদের কাছে আলোচ্য বিষয় ছিল। ইউনিভার্সিটিতে আনসি-র বেস্ট ফ্রেন্ড তালি আও বলছিলেন, "ওরা যখন নিউজ়িল্যান্ডে এসে থাকতে শুরু করল তখন থেকে ওদের চিনি আমি। ওরা একে অপরকে আবিষ্কার করছিল। কী খুশি ছিল ওরা! আনসি ছাত্রী হিসেবেও খুব ভাল ছিল। প্রফেসররা সকলে ভালবাসতেন ওকে।" সোমবার তাদের ইউনিভার্সিটিতে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয় আনসি-র স্মৃতিতে।
ঘটনার পরে তিন দিন কেটেছে। ক্রাইস্টচার্চ এলাকার কেরালা-কমিউনিটি আবদুলকে আগলে রেখেছে। আবদুল বললেন, "আনসির অনেক স্বপ্ন ছিল। ও গোটা জীবনটা আনন্দে বাঁচতে চেয়েছিল। ও খুব ভাল মানুষ ছিল। এরকম যেন কারও সঙ্গে না-হয় আর।"