
শেষ আপডেট: 18 November 2020 18:30
নৌসেনা সূত্রে খবর, গতকালে সকালে গোয়া উপকূলে আইএনএস হংস-এর ডেকে ল্যান্ড করে পি-৮আই। জুলাই মাসেই এই বিমান হাতে পাওয়ার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু কোভিড সংক্রমণের জন্য তা পিছিয়ে যায়। সূত্রের খবর, আমেরিকা থেকে একাধিক ক্ষেপাস্ত্র যুক্ত হয়েই এসেছে এই বিমান।
পুরনো পি-৩ এয়ারক্রাফ্টের বদলে পি-৮আই বিমান বানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। বোয়িং পি-৮ পোসেইডন যাকে ‘মাল্টিমিশন মেরিটাইম এয়ারক্রাফ্ট’ বলা হয়। সমুদ্রে নজরদারি, একইসঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে এই বিমান। শত্রুপক্ষের জাহাজ বা ডুবোজাহাজ যদি হামলা করে তাহলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তা রুখে দিতে পারে পি-৮আই। এর শক্তিশালী রেডার বহুদূর থেকেই শত্রুপক্ষের জাহাজের গতিবিধি টের পায়। জলের তলায় গোপনে ধেয়ে আসা সাবমেরিনের অবস্থানও সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে এই বিমানের রেডার।
মার্কিন ও ভারতীয় নৌবাহিনী ছাড়াও পি-৮আই বিমান ব্যবহার করে রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্স, ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স, রয়্যাল নরওয়েজিয়ান এয়ার ফোর্স, রয়্যাল নিউজিল্যান্ড এয়ার ফোর্স এবং রিপাবলিক কোরিয়া নেভি।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হারপুন ব্লক-২ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হালকা ওজনের টর্পেডোকে এই বিমানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শক্তিশালী রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে শত্রুসেনার যুদ্ধজাহাজ বা ডুবোজাহাজের খোঁজ পেয়ে ধ্বংস করতে পারবে এই বিমান। এই বিমানে রয়েছে ম্যাগনেটিক অ্যানোমালি ডিটেকশন। হাইড্রকার্বন সেন্সর রয়েছে যা বহুদূর থেকে ডিজেলচালিত জাহাজ ও ডুবোজাহাজের জ্বালানির গন্ধ টের পেয়ে অবস্থান নির্দেশ করতে পারবে।
ভারত প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছে। গালওয়ান সীমান্ত সংঘাতের আগেই ভারত মহাসাগরে ক্ষেপণান্ত্র প্রতিরোধী চিনা যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ভারত মহাসাগরে বিশেষ ব্যবসায়িক এলাকা (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি কয়েকটি চিনা জাহাজকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। বেজিং দাবি করেছিল, জলদস্যু দমনের জন্যই নামানো হয়েছিল ওই জাহাজগুলিকে। কিন্তু ভারতীয় নৌসেনার নজরদার বিমানে ধরা পড়ে চিনা জাহাজগুলিকে ঘিরে রেখেছে পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) যুদ্ধজাহাজ। ভারত মহাসাগরে ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা বরাবরই নজরে রয়েছে বেজিংয়ের। ওই এলাকায় চিনের বাড়াবাড়ি থামাতেই পি-৮আই বিমান নামিয়েছে ভারত। উপকূল এলাকায় নজরদারি, শত্রুপক্ষের জাহাজ এবং সাবমেরিনের অবস্থান জানা এবং প্রয়োজনে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই বিমান ভারতীয় নৌবাহিনীর অন্যতম বড় অস্ত্র।