
শেষ আপডেট: 15 September 2020 18:30
নর্দার্ন কম্যান্ডের মুখপাত্র বলেছেন, সাধারণভাবেই লাদাখের পাহাড়ি এলাকায় শীতের তাপমাত্রা মাইনাস ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। পাহাড়ি রাস্তায় বরফ জমে এলাকা আরও দুর্গম হয়ে ওঠে। কিন্তু এই সব প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো প্রশিক্ষণই আছে ভারতের বাহিনীর। চরম শীতেও পাহাড়ি খাঁজে শত্রু সেনার উপরে আচমকা প্রত্যাঘাত হানতে পারে লাদাখের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। শক্তিতে তারা যেমন দুর্দান্ত তেমনি সামরিক কৌশলেও অপ্রতিরোধ্য। চিনকে এটা ভাল করে বুঝে নিতে হবে।
পাহাড়ি খাঁজ, ভাঁজ যেখানে সাধারণ মানুষের পা রাখা অসম্ভব ব্যাপার সেখানেই অবাধ গতি এই বাহিনীর। আগ্নেয়াস্ত্রে নির্ভুল নিশানা। উঁচু পাহাড়ি এলাকার প্রচণ্ড ঠান্ডা, প্রতিকূল পরিবেশেও যুদ্ধ করার বিশেষ প্রশিক্ষণ আছে এই বাহিনীর। গা ঢাকা দিয়ে অতর্কিতে শত্রুপক্ষের উপর হামলা চালাতে পারে স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। তাদের গতি অতি সতর্ক, এক মুহূর্তের জন্যও টের পাবে না শত্রু পক্ষ। রণকৌশলে প্রতি পদক্ষেপে চ্যালেঞ্জ করতে পারে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে। যেহেতু তিব্বতি সেনাদের নিয়ে এই ফৌজ বানিয়েছে ভারত, তাই চিনের বাহিনীর রকমসকম এদের নখদর্পণে। কীভাবে, কোথা দিয়ে আক্রমণের কৌশল নিতে পারে চিনের সেনা তা আগেভাগেই আঁচ করতে পারে এই বাহিনী। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাল ফৌজের গতিবিধি আগে থেকে আঁচ করেই কালা টপের দখল নিতে পেরেছিল স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। চুসুলের কাছে ট্যাঙ্ক বাহিনীকে আগে থেকেই তৈরি রেখেছিল তারা। কালা টপের পাদদেশেও পাহারায় ছিল এসএফএফ। রাতের অন্ধকারে পা টিপে টিপে এসেও লাভ হয়নি চিনের সেনার। এসএফএফকে টপকে দক্ষিণ প্যাঙ্গং রেঞ্জে ঢুকতেই পারেনি লাল ফৌজ। আধিপত্য কায়েম তো অনেক দূরের কথা।
নর্দার্ন কম্যান্ড জানাচ্ছে, এইসব দেখেই শঙ্কিত হয়ে এখন লাদাখের পাহাড়ি এলাকায় ফাইবার কেবল বসিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করছে চিনের বাহিনী। ভারতের সেনার অবস্থান ও বিন্যাস জানার জন্যই তাদের এই প্রচেষ্টা। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ নেই। ভারত সবসময় চায় শান্তি বজায় রাখতে। তাই সেনা কম্যান্ডার স্তরে বৈঠক করে সংঘাতের পরিস্থিতি এড়ানোরই চেষ্টা চলছে। কিন্তু চিনের সেনা যদি বাহাদুরি দেখানোর চেষ্টা করে তাহলে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ভারতকে কঠিন পদক্ষেপ নিতেই হবে। এখনই চুসুলের কাছে ভারতের ট্যাঙ্ক রেজিমেন্ট তৈরি। সীমান্তে এয়ার ডিফেন্স প্রস্তুত। তাই সবদিক দিয়েই কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছে ভারত।