দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকায় অনাবাসী ভারতীয়দের একটি অংশ বলছেন, নাগরিকত্ব আইন করে মহত্বের পরিচয় দিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। তারা প্রমাণ করেছে, প্রতিবেশী দেশগুলিতে যে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছেন, তাদের প্রতি ভারত সহানুভূতিশীল। কিন্তু যাঁরা এই মত পোষণ করেন তাঁরা অনাবাসীদের মধ্যে সংখ্যালঘু। যে ভারতীয়রা আমেরিকায় বাস করেন, তাঁদের বেশিরভাগের দাবি, নাগরিকত্ব আইন বাতিল করতে হবে। রবিবার ভারতের ৭১ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আমেরিকার ৩০ টি শহরে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে ধ্বংস করবে। তাঁরা ওই আইনের বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেন। নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, হিউস্টন, আটলান্টা এবং সান ফ্রানসিস্কোর মতো শহরে ভারতীয় কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। ওয়াশিংটনে ভারতের দূতাবাসের সামনেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাঁদের স্লোগান ছিল, ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘হিন্দু মুসলিম শিখ ইসাহি, আপস মে সব ভাই ভাই’। বিক্ষোভকারীদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়েছে শিকাগোয়। সেখানে তাঁরা কয়েক মাইল লম্বা মানব বন্ধন করেছেন।
ওয়াশিংটনে ৫০০ ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান হোয়াইট হাউসের কাছে একটি পার্ক থেকে ভারতীয় দূতাবাস পর্যন্ত মিছিল করেন। দূতাবাসের সামনে গান্ধিজির মূর্তি আছে। সেখানে মিছিল শেষ হয়।
এই সব বিক্ষোভের উদ্যোক্তা ছিল ‘কোয়ালিশন টু স্টপ জেনোসাইড’ নামে এক সদ্য গঠিত মঞ্চ। আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল, ইকুয়ালিটি ল্যাবস, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার, জুইশ ভয়েস ফর পিস এবং হিন্দুস ফোর হিউম্যান রাইটস নামে সংগঠনগুলি যৌথভাবে মঞ্চটি গড়ে তুলেছে। ওয়াশিংটনে এক সমাবেশে ম্যাগসাইসাই পুরস্কার বিজেতা সন্দীপ পাণ্ডে বলেন, “ভারতে সিএএ এবং এনআরসি-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নৃশংস দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। সরকারের বিভেদকামী ফ্যাসিস্ট কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মহিলারা বৃহৎ সংখ্যায় পথে নেমেছেন।” সন্দীপ পাণ্ডের মতে, “মহিলাদের সমাবেশ দেখে আশা জাগছে যে, শেষ পর্যন্ত সেদেশের মানুষ সরকারের হাত থেকে সংবিধানকে রক্ষা করবেন।”