দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের সবচেয়ে পরিশোধিত পেট্রল ও ডিজেলে চলবে গাড়ি। দূষণ কমবে পরিবেশের। ১ এপ্রিল থেকেই ইউরো-৬ বা ভারত-স্টেজ ৬ (বিএস-৬)মানের জ্বালানি চালু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত বছর অবধি বিএস-৪ স্টেজের জ্বালানিতে গাড়ি চলত রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী এলাকায়। তবে তাতে দূষণে খুব বেশি লাগাম পরানো যায়নি। এবার আরও শুদ্ধ বিএস-৬ স্টেজের জ্বালানি চালু করার কথা ঘোষণা করল তেল মন্ত্রক।
রাজধানী সংলগ্ন অঞ্চলে ২০১৯-এর এপ্রিল থেকেই এই উন্নত তেল চালু করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতেও সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তেলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দূষণ বিধি মেনে বিশুদ্ধ মাপকাঠিতে তেল উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছিল দেশের বৃহত্তম তেল সংস্থাগুলিকে। বিএস-৬ পরিবেশ বিধি মেনে তৈরি গাড়ি ও তেল চালু করার জন্য তেল সংস্থাগুলি যেমন শোধনাগারের যন্ত্রপাতি বদলাচ্ছে, তেমনই গাড়ি সংস্থাগুলিও নতুন ইঞ্জিন নিয়ে গবেষণা করছে।
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি)-র চেয়ারম্যান সঞ্জীব সিং বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে পরিশোধিত তেল উৎপাদনের জন্য দেশের বেশিরভাগ তেল সংস্থাগুলি শোধনাগারে প্রয়োজনীয় বদল আনছে। আলট্রা-লো সালফারের বিএস-৬ স্টেজের তেল উৎপাদনের কথা গত বছরেই বলা হয়েছিল। তবে এখন পরিবেশ দূষণ কমাতে আরও বেশি জোর দিচ্ছে সরকার। তাই তেলের প্রতিটা ফোঁটাই হতে হবে একেবারে বিশুদ্ধ। ১ এপ্রিল থেকে দেশের সমস্ত তেল শোধনাগারগুলিতেই বিএস-৬ স্টেজের পেট্রল-ডিজেল তৈরি হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
ইউরো-৩ বা ভারতের মাপকাঠিতে বিএস-৩ স্টেজের জ্বালানিতে সালফারের মাত্রা থাকে ৩৫০ পিপিএম। ২০১০ সাল অবধি বিএস-৩ বিধিই চালু ছিল দেশে। এর সাত বছর পরে চালু হয় বিএস-৪ যাতে সালফারের মাত্রা ৫০ পিপিএম। এখন বিএস-৪ বিধি রয়েছে। রাজধানীর দূষণ যেমন মাত্রা ছাড়াচ্ছে, তাতে খপব তাড়াতাড়ি বিএস-৬ স্টেজের জ্বালানি চালু না করলে দূষণ আরও বাড়বে বলেই জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।
তেল সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, বিএস-৬ বিধিতে গাড়ি থেকে বার হওয়া গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের মাত্রা থাকবে অনেক নিয়ন্ত্রণে। তবে তা মানতে হলে গাড়ি সংস্থাগুলিকেও ইঞ্জিনের প্রযুক্তিগত উন্নতি করতে হবে। এর সঙ্গেই আর একটা প্রশ্ন উঠছে, জ্বালানির মান উন্নত হলেও, এপ্রিল থেকে বিএস-৬ দূষণ বিধি মেনে তৈরি গাড়ি চালু হচ্ছে না। গাড়ি সংস্থাগুলি তার জন্য এখনও তৈরি নয়। তাই বিশুদ্ধ মাপকাঠি মেনে উৎপাদিত তেলে গাড়ি চললেও, তার ইঞ্জিন থাকবে আগেরই মতো। বিএস-৬ ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবহার হলে যে ধোঁয়া বার হয়, তাতে নাইট্রোজেন অক্সাইড ও ক্ষতিকর ধূলিকণা প্রায় ৮০% কমার কথা। কিন্তু ইঞ্জিন না-বদলে, শুধু তেল বদলালে সেক্ষেত্রে দূষণে কতটা রাশ টানা যাবে সেই নিয়ে সন্দেহও থাকছে।