নজরে চিন, ছ’টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন পাচ্ছে নৌসেনা, ৫৫ হাজার কোটির চুক্তি পাকা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৌশক্তি আরও বাড়াচ্ছে ভারত। ৫৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ছ’টি শক্তিশালী অত্যাধুনিক সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ কেনার চুক্তি পাকা হয়ে গেছে। অক্টোবরের মধ্যেই নিলামের প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মেক ইন্ডিয়া প্রকল্পের আও
শেষ আপডেট: 30 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৌশক্তি আরও বাড়াচ্ছে ভারত। ৫৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ছ’টি শক্তিশালী অত্যাধুনিক সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ কেনার চুক্তি পাকা হয়ে গেছে। অক্টোবরের মধ্যেই নিলামের প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মেক ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় দেশের সংস্থাগুলিকেই এই সাবমেরিন তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল। খুব শিগগিরই ছ’টি ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন চলে আসবে ভারতীয় নৌসেনার হাতে।
অত্যাধুনিক সাবমেরিন বানাতে কৌশলগত অংশীদারিত্বের পথে হেঁটেছে ভারত। এই মেগা প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘পি-৭৫ আই’ । এই মডেলে দেশের কোনও বেসরকারি সংস্থা নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য বিদেশি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে। প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিনের সংখ্যা বাড়ানো তো হবেই, পাশাপাশি নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের সংখ্যাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
পি-৭৫ আই মডেলের জন্য আগেই সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিল ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি)। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে ভারতীয় নৌসেনার জন্য আধুনিক সাবমেরিনের পাশাপাশি ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে গতি আনতে ইতিমধ্যেই পাঁচটি সংস্থাকে ‘রিকোয়েস্ট ফর ইনফরমেশন’ (আরএফআই) পাঠিয়েছে ভারত। এর মধ্যে দুটি ভারতীয় সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টার্বো গ্রুপ, মাজাগাঁও ডকস লিমিটেড ও তিনটি বিদেশি সংস্থা নেভাল গ্রুপ-ডিসিএনএস (ফ্রান্স), থাইজেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (জার্মানি) ও নাভানিতা (স্পেন)। অক্টোবরেই ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল’ (আরএফপি) পাঠানো হবে। সংস্থাগুলির তরফে প্রস্তাব আসবে এবং সেই ভিত্তিতেই সাবমেরিন তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগোবে।
[caption id="attachment_255168" align="aligncenter" width="650"]
নিউক্লিয়ার সাবমেরিন[/caption]
মোট ২৪টি সাবমেরিন হাতে রাখতে চাইছে ভারতীয় নৌসেনা। তার মধ্যে ৬টি নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন, ১৫টি ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন এবং ২টি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। ভারতীয় নৌসেনার হাতে এই মুহূর্তে সাবমেরিনের সংখ্যা ১৫টি। যার মধ্যে ১৩টি ডিজেল ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন, ২টি নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন। ভারতের হাতে এখন যে ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিনগুলি রয়েছে সেগুলির মধ্যে ৯টি রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল। ৪টি কেনা হয়েছিল জার্মানির কাছ থেকে। এই সাবমেরিনগুলি এখন অনেক পুরনো হয়ে গেছে। নতুন ৬টি সাবমেরিন চলে এলে এই পুরনোগুলিকে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
[caption id="attachment_255169" align="aligncenter" width="650"]
স্করপেন ক্লাস অ্যাটাক সাবমেরিন[/caption]
গালওয়ান সংঘাতের পরে দক্ষিণ চিন সাগরে আরও আগ্রাসী চিনের নৌবহর। ভারতও ইতিমধ্যেই সেখানে নিজেদের রণতরী পাঠিয়ে দিয়েছে। সূত্রের খবর, চিনের অ্যাটক সাবমেরিনের সংখ্যা ভারতের থেকে বেশি। চিনের হাতে এখন আছে ৫০টি সাবমেরিন। যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা সাড়ে তিনশোর বেশি। আগামী ৮-১০ বছরে এই সংখ্যায় পাঁচশোর কাছাকাছি পৌঁছবে।
তবে নৌশক্তিতে পিছিয়ে নেই ভারতও। এখন দেশের হাতে আছে রাশিয়ার থেকে লিজ নেওয়া নিউক্লিয়ার সাবমেরিন আইএনএস চক্র। ২০২২ সাল পর্যন্ত এই সাবমেরিন ভারতের হাতেই থাকবে। তাছাড়া রয়েছে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আইএনএস অরিহন্ত। ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি স্করপেন শ্রেণির দুটি সাবমেরিনও সমুদ্রে নামিয়েছে ভারত। এদের নাম আইএনএস কলবরী এবং আইএনএস খান্ডেরি। স্করপেন শ্রেণির সাবমেরিন প্রযুক্তিতে ও আক্রমণাত্মক ক্ষমতায় সেরা। জলের তলায় নিঃশব্দে ঘোরাফেরা করতে পারে এই সাবমেরিন। ডিজেল-ইলেকট্রিক ক্লাসের থেকেও প্রযুক্তিতে উন্নত। গোপনে আঘাত করে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজে। স্করপেন থেকে টর্পেডো ও অ্যান্টি-শিপ গাইডেড মিসাইলও নিক্ষেপ করা যায়। গোপনে শত্রুপক্ষের নৌবাহিনীর খবরও আনতে পারে এই ডুবোজাহাজ।