দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সংক্রমণ রুখতে বিশ্বের সব দেশকে একজোট হয়ে লড়াই করার কথা বলেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। করোনা প্রতিরোধে কার্যকরী হতে পারে এমন ওষুধগুলির সলিডারিটি ট্রায়াল করচে বলেছিলেন হু-র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস অ্যাডহানম ঘেব্রেইসাস। সেই মতো ভারতেও শুরু হল বৃহত্তর কর্মসূচী। দেশের ৩০টি হাসপাতালের প্রায় ১৫০০ জন কোভিড রোগীকে নিয়ে শুরু হতে চলেছে ক্নিনিকাল ট্রায়াল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উদ্যোগে এই ট্রায়ালের দায়িত্বে রয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।
করোনা সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। দেশে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা ৭৮ হাজার ছাড়িয়েছে। আইসিএমআর আগেই জানিয়েছিল, দেশের ৭৫টি জেলায় সমীক্ষা চালানো হবে। করোনা আক্রান্ত এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে র্যাপিড টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে।
আইসিএমআর-ন্যাশনাল এইডস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (NARI)-এর এপিডেমোলজি বিভাগের প্রধান ডাক্তার শীলা গোড়বোলে জানিয়েছেন, হটস্পট এলাকাগুলিতে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ১৫০০ রোগীকে চিহ্নিত করা হচ্ছে যাঁদের শরীরে কোভিড পজিটিভ। ৩০টি হাসপাতালে এই রোগীদের উপরে করোনা প্রতিরোধী ওষুধের ক্নিনিকাল ট্রায়াল শুরু হবে।
কোন কোন ওষুধ রয়েছে তালিকায়? ডাক্তার শীলা বলেছেন, অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ রেমডেসিভির, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, লোপিনাভির-রিটোনাভির এবং লোপিনাভির-রিটোনাভিরের সঙ্গে ইন্টারফেরনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে। এই অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধগুলির বিভিন্ন কম্বিনেশন ও ডোজ রোগীদের শরীরে প্রয়োগ করে তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। সংক্রমণ কমাতে এই ওষুধগুলির কোন কোন কম্বিনেশন কাজে আসছে সেটা পরীক্ষা করে দেখা হবে।
আইসিএমআর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১৫০০ রোগীকে বেছে নেওয়া হবে। এরপরে এলাকাভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে রোগীদের চিহ্নিত করে ট্রায়ালের জন্য বেছে নেওয়া হবে।
করোনা প্রতিরোধে বর্তমানে রেমডেসিভির ওষুধ অনেকটাই ভরসা দিচ্ছে বলে জানিয়েছিল আইসিএমআর। বলা হয়েছিল, এই ওষুধ ৬৮% রোগীর শ্বাসের সমস্যা কম করেছে। রেমডেসিভিরের নির্মাতা সংস্থা গিলিয়েড সায়েন্সেসের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে চুক্তি হয়েছে দেশের তিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সিপলা, হেটেরো ল্যাবস ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেসের। তাছাড়া, সিএসআইআরে এই ওষুধ তৈরির মূল উপকরণগুলি বানানো শুরু হয়েছে।
অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধের পাশাপাশি করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি নিয়েও ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে আইসিএমআর। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অনুমোদনে, ১০ রাজ্যের ২১টি হাসপাতালে এই ট্রায়াল শুরু হবে। তারমধ্যে মহারাষ্ট্রের ৫টি হাসপাতাল, গুজরাতের ৪টি হাসপাতাল, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের ২টি করে হাসপাতাল এবং পঞ্জাব, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা ও ছত্তীসগড়ের ১টি করে হাসপাতালে এই প্লাজমা থেরাপির ট্রায়াল শুরু হবে।