দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় মার্কিন মুলুক ছাড়াও বিশ্বের আরও ২০টি দেশে ম্যালেরিয়ার ড্রাগ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিন পাঠাচ্ছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, মানবিকতার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনার সংক্রমণ যে যে দেশে মহামারীর আকার নিয়েছে, তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। প্রতিবেশী দেশের কিছু সংস্থাকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও প্যারাসিটামল উৎপাদনে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে সেই সঙ্গে এই ওষুধ কয়েকটি দেশে রফতানিতেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত কিছু দেশ, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। ব্রাজিল, স্পেন, জার্মানি, বাহারিন, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান, মলদ্বীপ, বাংলাদেশ, মরিশাস, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, অজরায়েল, কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা-সহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রফতানি করা হবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন।
বিদেশ মন্ত্রকের কোভিড-কোঅর্ডিনেটর দাম্মু রবি বলেছেন, বহু দেশ থেকেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রফতানির অনুরোধ এসেছে। পাশাপাশি অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও প্যারাসিটামলও পাঠানো হবে ভারতের তরফে। ব্রিটেনে প্রায় ৩০ লক্ষ প্যারাসিটামল ট্যাবলেট পাঠানো হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল বলেছিলেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণেই আছে। বর্তমানে দেশে এই ট্যাবলেটের চাহিদা ১ কোটি। এই মুহূর্তে সরকারের কাছে ৩.২৮ কোটি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট রয়েছে। আরও বেশি পরিমাণে এই ট্যাবলেট বানানোর বরাত দেওয়া হয়েছে দেশের বড় বড় ওষুধ নির্মাতা সংস্থাগুলিকে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বড় হাতিয়ার হতে পারে এমন দাবি করেছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরাই। ম্যালেরিয়ার ড্রাগকে ‘গেম চেঞ্জার’বলে দাগিয়ে দেওয়ার পরেই এর চাহিদা বাড়তে শুরু করে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যালেরিয়ার ড্রাগ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্র। বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনে ডিজিএফটি (ডিরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেড)-র তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয় বিশেষ আর্থিক এলাকা (এসইজ়েড) বা রফতানিকারক কোনও সংস্থার মাধ্যমেই ম্যালেরিয়ার ড্রাগ বিদেশে রফতানি করা যাবে না।
ভারত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরেই দিল্লিকে হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওষুধ না পাঠালে ফল ভুগতে হতে পারে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এরপরেই রফতানিতে রাশ আলগা করে ভারত। ভারতে যেহেতু এই ওষুধের ৭০ শতাংশ উৎপাদন করা হয়, তাই সদ্য ভারত সফর সেরে ফিরে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টও তড়িঘড়ি ভারতকেই টার্গেট করেন। আবার ভারত থেকেই ২ কোটি ৯০ লক্ষ ওষুধ আসছে জেনে উচ্চকণ্ঠে মোদীকে ‘মহান’বলে ভারতের প্রশংসাতেই পঞ্চমুখ হন।