
শেষ আপডেট: 19 January 2020 18:30
বঙ্গোপসাগরের গভীর থেকে এই পরমাণু অস্ত্রবাহী মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষপণের জন্য পাঠানো হয়েছিল নৌসেনার দু’টি জাহাজ। আইএনএস অরিহন্তের একটি প্রতিকৃতি রাখা ছইল সমুদ্রের গভীরে। সেখান থেকেই ছোড়া হয় কে-৪ মিসাইল। নৌসেনা সূত্রে খবর, সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার লক্ষ্যবস্তু নির্ভুল নিশানায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র।
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই আন্ডার-সি ব্যালিস্টিক মিসাইল বানিয়েছে ডিআরডিও। দৈর্ঘ্য ১২ মিটার। ওজন ১৭ টন (আপডেটেড ভার্সন ১৯ টন)। ২০০০ কিলোগ্রাম ওজনের পরমাণু অস্ত্র বহন করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ডিআরডিও জানিয়েছে, কে-৪ মিসাইলের রেঞ্জ অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই। শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে ছুটতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের নিউক্লিয়ার সাবমেরিন অর্থাৎ অরিহন্ত-ক্লাস সাবমেরিনের জন্যই বিশেষভাবে বানানো হয়েছে কে-৪ কে। এর নিশানা থেকে রেহাই মেলা প্রায় অসম্ভব। ডিআরডিও জানিয়েছেন, হাইপারসনিক স্পিড ও সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা থেকে কোনওভাবেই রেহাই পাবে না শত্রুপক্ষের যে কোনও সামরিক অস্ত্র।
সমুদ্রগর্ভ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ভারতে হাতে আছে বিও-৫ মিসাইল। এর পাল্লা ৭০০ কিলোমিটার। তবে বিও-৫ মিসাইলের চেয়েও ভয়ঙ্কর ও শক্তিশালী কে-৪ ব্যালিস্টিক মিসাইল।
২০১৬ সালের মার্চে বিশাখাপত্তনম থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল দূরে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ভারতীয় নৌসেনা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এই উৎক্ষেপণ সফল হয়নি। মিসাইল তার পাল্লার লক্ষবস্তুকে আঘাত হানতে সক্ষম হয়নি। ডিআরডিও জানিয়েছে, বর্তমানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিতে আরও উন্নতি ঘটানো হয়েছে। হাইপারসনিক কে-৪ ব্যালিস্টিক মিসাইল এখনও আরও বেশি বিধ্বংসী। শত্রুপক্ষের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিতে চলেছে এই সমরাস্ত্র।