দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাশিয়া থেকে ৫০০ কোটি ডলার দিয়ে অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চলেছে ভারত। তাতে আপত্তি আছে আমেরিকার। সেদেশের বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও মঙ্গলবার রাতে ভারতে এসেছেন। বুধবার তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরে দু’জন যৌথভাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন পম্পিও। তবে তাতে বেশি গুরুত্ব দিতে তিনি নারাজ।
তাঁর কথায়, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে মতবিরোধ হয়ই। পরে জয়শংকর বলেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিষয়ে আমরা গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলছি। এই ইস্যুগুলি কীভাবে সমাধান করব, তা নির্ভর করবে আমাদের সদিচ্ছার ওপরে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যদি পরিণত মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে পারি, তবেই কোনও বিতর্কের সমাধানের রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাবে। আমরা উভয়েই আমাদের দেশের সরকারকে অনুরোধ করব যাতে সমাধান খুঁজে বার করার জন্য আরও বেশি চেষ্টা করা হয়।
গত ১ জুন থেকে ভারতকে বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়া বন্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাঁর পাল্টা হিসাবে জুনেই আমেরিকা থেকে আমদানি হয় এমন ২৮ টি পণ্যের ওপরে শুল্ক নিতে শুরু করেছে ভারত। এদিন এক প্রশ্নের জবাবে পম্পিও তাঁর সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ভারতের বাজারে আমাদের আরও বেশি করে ঢুকতে দেওয়া উচিত।
জয়শংকর পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী চলবে। তাঁর কথায়, বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে। কয়েকটি দেশের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। আমরা সেই কাজটিই করব যা আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যা সঙ্গতিপূর্ণ।
পম্পিও এদিন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইরানই এখন সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় মদতদাতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, আমেরিকার এই অবস্থানের সঙ্গে ভারত সম্ভবত একমত হবে না। ইরান নিয়ে ভবিষ্যতেও ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা হবে। তবে জয়শংকর এদিন বলেন, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছি।