দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লিতে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তাই রাজধানীর প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করল দিল্লি সরকার। মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর পরে দিল্লিতেই দেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
শনিবার দিল্লি সরকার এক নির্দেশে বলে, "স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে থাকা প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমডি, ডিন এবং ডায়রেক্টরদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যে কর্মীরা ছুটিতে আছেন, তাঁদের অবিলম্বে কাজে যোগ দিতে বলুন।" এখন থেকে 'গুরুতর কারণ' ছাড়া দিল্লিতে কোনও স্বাস্থ্যকর্মী ছুটি নিতে পারবেন না।
চলতি সপ্তাহেই দিল্লিতে শাসক আম আদমি পার্টির বিধায়ক অতিশী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর মৃদু উপসর্গ রয়েছে। তিনি এখন আছেন হোম আইসোলেশনে। শুক্রবার দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজাল নির্দেশ দিয়েছিলেন, এবার থেকে রাজধানীতে কেউ করোনা পজিটিভ হলে তাঁকে পাঁচদিন সরকারি কোয়ারান্টাইন সেন্টারে থাকতেই হবে। তিনি উপসর্গহীন হলেও তাঁকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না। ওই নির্দেশ নিয়ে বিরাট বিতর্ক সৃষ্টি হয়। শনিবার বিকালে জানা গেল, সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে এই নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর কথায়, "ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ নির্দেশ দিয়েছে, যে করোনা রোগীদের শরীরে উপসর্গ নেই তাঁরা বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে পারেন। কিন্তু দিল্লির জন্য আলাদা নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে কেন? এখানে বেশিরভাগ করোনা রোগীরই শরীরে উপসর্গ নেই। অতজনকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা যাবে কী করে?"
এদিন অতিশী বলেন, "যে কোনও করোনা আক্রান্তকে পাঁচদিন সরকারি কোয়ারান্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত ভুল। আমি নিজে করোনা রোগী। নিজের বাড়িতে থেকেই সেরে উঠছি। কিন্তু করোনা হলেই পাঁচদিন সরকারি কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে শুনলে অনেকে হয়তো টেস্ট করাতেই চাইবেন না।"
আপের অপর নেতা রাঘব চাড্ডা বলেন, ৩০ জুনের মধ্যে দিল্লিতে করোনা রোগীদের জন্য ১৫ হাজার বেড লাগবে। কিন্তু প্রত্যেক করোনা আক্রান্তকে যদি কোয়ারান্টাইনে রাখতে হয়, তাহলে লাগবে ৯০ হাজার বেড। অতগুলি বেড পাওয়া যাবে কোথা থেকে।
উত্তর দিল্লির রাজেন্দ্র নগরের বিধায়ক রাঘব চাড্ডা বলেন, "আমার নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে অনেকে ফোন করে আমাকে বলছেন, টেস্ট করাতে যাবেন না। তাঁদের ভয়, টেস্ট করার পরেই হয়তো জোর করে তাঁদের কোয়ারান্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।"