দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী চালাচ্ছিলেন বায়ুসেনার বিমান এএন-৩২। বায়ুসেনারই অফিসার স্ত্রী ছিলেন রেডারের সামনে ডিউটিতে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে। স্ত্রী-র চোখের সামনেই রেডার থেকে হারিয়ে গেল বিমানটি। তখন দুপুর ১২টা ২৭। তার পর থেকে চার দিন কেটে গেছে। সেই বিমানের না পাওয়া গেছে কোনও খোঁজ, না পাওয়া গেছে ধ্বংসাবশেষ। সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে পড়েছেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সন্ধ্যা তানওয়ার। হারিয়ে গেছেন স্বামী, এয়ার ফোর্সের পাইলট ২৯ বছরের আশিস তানওয়ার। মাত্র এক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের।
সোমবার আশিস-সহ ১৩ জনকে নিয়ে জোরহাট থেকে উড়েছিল এএন-৩২। অরুণাচল প্রদেশের অ্যাডভান্স ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড-এর উদ্দেশে। ৫০ মিনিটের এই উড়ান শুরু হওয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই রেডার থেকে আচমকা হারিয়ে যায় বিমানটি। তার পর থেকে তোলপাড় করে খোঁজা সত্ত্বেও কিছু পাওয়া যায়নি। তল্লাশিতে কাজে লাগানো হচ্ছে এমআই-১৭, সুখোই এসইউ-৩০ এবং সি-১৩০জে যুদ্ধবিমান। চালকহীন বিমানও কাজে নামানো হয়েছে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি বন্ধও রাখতে হচ্ছে মাঝে মাঝে।
সেনাবাহিনীর একটি মহলের ধারণা, বিমানটি ভারতের আকাশসীমা অতিক্রম করে কোনও ভাবে চিনে প্রবেশ করে গেছিল। তার পর রেডার থেকে সেটি হারিয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে বাসু সেনার অফিসারেরা চরম বিপদে রয়েছেন।
আশিসের বাড়ি হরিয়ানায়। তাঁর মা সরোজ বলেন, “আমার ছেলে আর পুত্রবধূ সন্ধ্যা গত মাসেই এখানে এসেছিল। তার পর ওরা তাইল্যান্ডে এক সপ্তাহের ছুটি কাটাতে গেছিল। এর মধ্যে আবার আসবে বলে জানিয়েছিল আমার ছেলে। কিন্তু চার দিন কেটে গেল, কোনও খোঁজই নেই।” সংবাদসংস্থা এএনআইকে সরোজ বলেন, তাঁর ধারণা বিমানটি ভুল করে চিনে ঢুকে পড়েছিল। সরকার কেন চিনের সঙ্গে এ নিয়ে কথাবার্তা বলছে না, প্রশ্ন তাঁর। তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
অ্যান্টনভ এএন-৩২ বিমানের এ ভাবে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১৬ সালের ২২ জুলাই বঙ্গোপসাগরের উপরে হারিয়ে যায় ২৯ জন সেনা অফিসার-সহ আর একটি এএন-৩২। বিমানটি চেন্নাই থেকে পোর্ট ব্লেয়ার যাচ্ছিল। প্রায় দু মাস ধরে বঙ্গোপসাগরে তন্নতন্ন করে তল্লাশির পরেও কোনও ধ্বংসাবশেষ মেলেনি। পরে যাত্রীদের মৃত বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার।