দ্য ওয়াল ব্যুরো : বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানে বন্দি হওয়ার পরে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লি থেকে খুব স্পষ্ট ভাষায় পাকিস্তানের প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অভিনন্দনের যদি শারীরিক কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে আমরা ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ব। সেক্ষেত্রে পালটা আঘাত করত পাকিস্তানও। তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। আকাশপথে ভারতের আক্রমণের আশঙ্কায় পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে ব্ল্যাক আউটও করে রাখা হয়েছিল।
দুই প্রতিবেশী দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে মারাত্মক আঘাত করতে চলেছে জেনে উদ্বিগ্ন হয় আমেরিকা ও আরও কয়েকটি দেশ। মূলত তাদের হস্তক্ষেপেই দুই দেশের যুদ্ধ এড়ানো গিয়েছে। রিসার্চ অ্যান্ড ইনটেলিজেন্স উইং থেকে একটি সূত্রে জানা গিয়েছে এই খবর।
২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের কয়েকটি এফ-১৬ বিমান ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়ে। মিগ -২১ বিমানে চড়ে তাদের তাড়া করেন অভিনন্দন। তিনি ঢুকে পড়েন পাকিস্তানে। তাঁর বিমান পাকিস্তানের গোলায় ভেঙে পড়ে। তিনি প্যারাসুট নিয়ে মাটিতে নামেন। পাকিস্তানি সেনা তাঁকে বন্দি করে।
সেই খবর জানাজানি হওয়ার পরেই ‘র’-এর সচিব অনিল দশমানা সরাসরি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম গিরির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে পরিষ্কার বলেন, বন্দি পাইলটের কোনও ক্ষতি হলে মিসাইল ছোঁড়া হবে। দিল্লি ততক্ষণে স্থির করে ফেলে, রাজস্থান সীমান্তে ১২ টি স্বল্প পাল্লার ভূমি থেকে ভূমি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি রাখা হবে।
ইতিমধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ফোনে আমেরিকার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোলটন এবং বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও-র সঙ্গে কথা বলেন। দোভাল আমেরিকাকে স্পষ্ট জানান, অভিনন্দনের কোনও ক্ষতি হলে ভারত ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়বে। দোভাল ও দশমানা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবের সঙ্গে কথা বলেন। ওই সব দেশকে অনুরোধ করেন, তারা যেন ইমরান খান সরকারের ওপরে চাপ সৃষ্টি করে যাতে পাইলটের কোনও ক্ষতি না হয়। কোনও শর্ত ছাড়াই যেন অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরদিনই দোভাল ফোনে বোলটনের সঙ্গে কথা বলেন। বোলটন তাঁকে বলেন, ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। আমেরিকা সেই অধিকারকে সমর্থন করে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ১৭ মার্চ ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের বিরুদ্ধে মিসাইল ছুঁড়তে তৈরি হয়েছিল। কয়েকটি দেশের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ এড়ানো গিয়েছে।
ইসলামাবাদ থেকে একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনী মনে করে, ভারত প্রথমেই অন্তত ন’টি মিসাইল ছুঁড়ত। বদলা নেওয়ার জন্য পাকিস্তানও প্রথম দফায় ১৩টি মিসাইল ছুঁড়তে তৈরি ছিল। পাকিস্তানের ধারণা ছিল, রাত ন’টা থেকে ১০ টার মধ্যে ভারত আক্রমণ শুরু করবে।
সেইমতো পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ইসলামাবাদ, লাহৌর এবং করাচির কয়েকটি অঞ্চলে ব্ল্যাক আউট করার নির্দেশ দেয়। যে সব অঞ্চলে সেনাশিবির আছে, সেখানেই সব আলো নিভিয়ে রাখা হয়েছিল।