দ্য ওয়াল ব্যুরো: শান্তি আলোচনার মাঝেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে চিন। সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর কোনও অভিপ্রায়ই নেই তাদের। ভারত চুপ আছে মানেই যে দুর্বল, সেটা ভাবার কোনও কারণ নেই, চিনকে ফের হুঁশিয়ারি দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। হায়দরাবাদের ডান্ডিগাল এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমির অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময়, রাজনাথ বলেন, ভারত শান্তি চেয়েছে সবসময়। কিন্তু সহ্যেরও একটা সীমা আছে। আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপোস করা হবে না।
সরকার যে আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করতে চায় সেকথাও এদিন বলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে গেলে সবচেয়ে আগে দরকার বিশ্বাস। দুই দেশই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে তখনই আসবে যখন বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা হবে। আগ্রাসন দেখিয়ে জবরদস্তি অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে, আন্তর্জাতিক নীতির সম্মান করা হবে। রাজনাথের বক্তব্য, চিন কোনওদিনই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়নি। সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও তলে তলে তারা নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে চলেছে। এমনকি পাকিস্তানের সেনাদেরও উস্কানি দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখায় অশান্তি জিইয়ে রাখতে বলেছে। একদিকে পাকিস্তান, অন্যদিকে চিন, লাগাতার সীমান্তে গোলমাল বাঁধানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
পূর্ব লাদাখে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রথম নয়। আগেও বহুবার হয়েছে। কিন্তু সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে বৈঠকের পরে তার সমাধানও করা গেছে। কিন্তু ১৫ জুন গালওয়ানের মুখোমুখি সংঘাতের পরে সীমান্ত পরিস্থিতি চরমে ওঠে। দফায় দফায় বৈঠকেও শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বরং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এখন প্যাঙ্গং লেকের পাহাড়ি এলাকায় সামরিক বহর নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই দেশের বাহিনীই। কিছুদিন আগেই নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ করে সংঘর্ষে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চিনের বিরুদ্ধে। বেজিং বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে দাবিও করেছিল নয়াদিল্লি। সীমান্তে পরিস্থিতি এখন রীতিমতো উত্তেজক।
তিন সামরিক স্তম্ভের প্রধান চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত দিনকয়েক আগেই বলেছেন, তিব্বতে নতুন করে সামরিক কাঠামো তৈরি করছে চিন। সেখানে তাদের হেলিপ্যাড ও রাইফেল ডিভিশন মোতায়েন করা হচ্ছে। অন্যদিকে ত্রিদেশীয় সীমান্ত ডোকলামের কাছেও চিনাবাহিনী তৎপর। অরুণাচল সীমান্তেও সেনার সংখ্যা বাড়াচ্ছে চিন। এদিনের অনুষ্ঠানে রাজনাথ বলেন, ভারতীয় সেনার দক্ষতায় পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। ভারতের পার্বত্য বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার সাহস দেখায়নি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত চাইলেন যোগ্য জবাব দিতে পারে। বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকে ভারতের কঠোর প্রত্যাঘাতই তার প্রমাণ। পাক বাহিনীর সাংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘণের উপযুক্ত জবাবও দিচ্ছে ভারতীয় সেনারা। তাই ভারতকে দুর্বল ভেবে বসলে তার মূল্য চোকাতে হবে চিনের বাহিনীকে।