দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা অতিমহামারীর ফলে ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়তে চলেছে দেশ। এই সংকট থেকে কীভাবে উদ্ধার পাওয়া যায়, তা নিয়ে মঙ্গলবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভিডিও মারফৎ আলোচনা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। আলোচনায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোর দিয়ে বললেন, দেশের সবচেয়ে গরিবদের হাতে টাকা দেওয়া দরকার।
গত সপ্তাহে আর্থিক সংকট নিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাহুল। এদিন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বলেন, দেশে লকডাউনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা। তাদের অনেকের দেউলিয়া হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। এর ফলে অনেকে চাকরি হারাবেন।
অভিজিৎবাবু বলেন, “আমরা অনেকেই চাইছি, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করা হোক। এর পিছনে নির্দিষ্ট কারণ আছে।” অন্যান্য দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “অনেকেই এখন প্যাকেজ ঘোষণা করছে। আমেরিকা ঘোষণা করেছে, জাপান করেছে। ইউরোপের অনেক দেশ করেছে। আমরা এখনও পর্যন্ত যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, তা যথেষ্ট নয়। আমরা যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, তা জিডিপি-র মাত্র এক শতাংশ। আমেরিকা তাদের জিডিপির ১০ শতাংশ প্যাকেজ হিসাবে ঘোষণা করেছে।”
অভিজিৎবাবুর মতে, আমেরিকার উদাহরণ অনুসরণ করা উচিত ভারতের। তিনি বলেন, বাজারে চাহিদা বাড়ানোর জন্য মানুষের হাতে টাকা দেওয়া উচিত। তবে তিনি আশাবাদী। তাঁর ধারণা, লকডাউন উঠে যাওয়ার পরে ভারতের অর্থনীতি ছন্দ ফিরে পাবে। আমরা এব্যাপারে আশাবাদী হতে পারি। তাঁর কথায়, “সকলের হাতে টাকা দেওয়া চাই। তবেই মানুষ ভোগ্যপণ্য কিনতে পারবে।”
রাহুল প্রশ্ন করেন, কোনওভাবে কি সরাসরি মানুষের হাতে টাকা দেওয়া যায়? অভিজিৎবাবু বলেন, “সবচেয়ে গরিবদের হাতে টাকা দিতে হবে। কাদের হাতে টাকা দেওয়া হবে, তা স্থির করা জরুরি।” পরে তিনি বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ৬-০ শতাংশ মানুষের হাতে টাকা দেওয়া যেতে পারে। আমার মনে হয় না তাতে খারাপ কিছু হবে।”
শীঘ্র লকডাউন শেষ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। একইসঙ্গে তিনি বলেন, রোগটি কীভাবে ছড়াচ্ছে, তার ওপরেও লক্ষ রাখতে হবে। তাঁর কথায়, “কত তাড়াতাড়ি আমরা লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসতে পারব, তা নির্ভর করছে রোগটি কীভাবে সংক্রমিত হচ্ছে তার ওপরে। যখন দেশের বড় সংখ্যক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তখন নিশ্চয় লকডাউন তুলে নেওয়া যায় না। রোগটির গতিপথ সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে।”
রাহুল উল্লেখ করেন, রেশন কার্ড না থাকার জন্য অনেকে সরকারি সাহায্য পাচ্ছেন না। অভিজিৎবাবু বলেন, “অন্যান্য রেশিন কার্ডের কথা বাদ দিন। টেম্পোরারি রেশন কার্ড ইস্যু করুন। যাঁরা চাইবেন, তাঁদেরই যেন অস্থায়ী রেশন কার্ড দেওয়া হয়। সেই রেশন কার্ডের মেয়াদ হবে তিন মাস। প্রয়োজন হলে কার্ডের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো যেতে পারে।”
এই প্রসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের কথাও ওঠে। লকডাউনের ফলে তাঁরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছিলেন। খাবার ও আশ্রয়ের অভাবে তাঁরা রীতিমতো বিপদে পড়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগের চাকরিও চলে গিয়েছে। অভিজিৎবাবু বলেন যাঁরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছেন, তাঁদের ফেরানোর দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া উচিত।