
শেষ আপডেট: 25 July 2023 06:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ বছর আগের ঘটনা। ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটের ঠিক এক বছর আগে কেন্দ্রে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব (no-confidence motion) এনেছিল কংগ্রেস ও বামেরা। সংসদে সেই স্মৃতি যেন ফিরছে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের (BJP Government) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার কথা ভাবছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া (INDIA)।
মণিপুর ইস্যুতে সংসদের দুই কক্ষেই অচলাবস্থা চলছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকালে এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি বলেন, এখন সূর্যোদয়ের ঠিক আগের সময়। এক বছর বাদে লোকসভা ভোট। তাই ঘুম থেকে উঠে নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করে দিন।
মোদী যখন এই ভোকাল টনিক দিচ্ছেন, তখন সংসদে পাল্টা বৈঠকে বসেছিলেন ২৬টি বিরোধী দলের নেতারা।
তবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
এমনিতে লোকসভায় বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনলেও মোদী সরকারের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ, লোকসভায় বিজেপির একারই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাব আনার অর্থ হল, সব বিরোধী দল কেন্দ্রে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সংসদে মুখ খোলার সুযোগ পাবে। তারা দেখাতে পারবে মোদীর বিরুদ্ধে এককাট্টা ‘ইন্ডিয়া’। আবার সেই সব অভিযোগের জবাবও দিতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।
২০০৩ সালে সনিয়া গান্ধী যখন বাজপেয়ী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন, তখন সংখ্যার তাকতে কংগ্রেস ছিল দুর্বল। তুলনায় অনেকটাই সবল ছিল এনডিএ জোট। কিন্তু সেই অনাস্থা প্রস্তাবকে সামনে রেখে সনিয়া সর্বভারতীয় স্তরে বিরোধী জোট তৈরির সলতে পাকাতে শুরু করে দিয়েছিলেন।
বিজেপি সেই জোটকে শুরুতে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বরং বেঙ্কাইয়া নায়ডুরা বাজপেয়ীকে বিকাশ পুরুষ আর লালকৃষ্ণ আডবাণীকে লৌহ পুরুষ আখ্যা দিয়ে ‘ভারত উদয়’ যাত্রায় সওয়ার ছিলেন। কিন্তু ভোটের ফলাফলে ধরাশায়ী হয়েছিল বিজেপি ও এনডিএ।
এদিন বিরোধী দলের বৈঠকের পর কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা দ্য ওয়ালকে বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব আনার ব্যাপারে একটা আলোচনা জোটের মধ্যে রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও সর্বসম্মতি নেই। অনেকে সঙ্গতভাবে মনে করছেন, মণিপুর নিয়ে যখন মোদী সরকার ল্যাজেগোবরে হয়ে গেছে, তখন এটা নিয়েই আরও চাপ দেওয়া হোক। এর পর অনাস্থা প্রস্তাব আনা যেতে পারে।
মলয় ফের ইডি-র হাজিরা এড়ালেন, এবার কী কারণ দেখালেন রাজ্যের মন্ত্রী