দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে দলটি গতকাল পর্যন্ত তিন উইকেট হারিয়ে ভাল অবস্থায় ছিল, সেই দলটি রাতারাতি হয়ে গেল লিলিপুট। ২১৫/৩ উইকেট থেকে নিমেষে অলআউটই হয়ে গেল ২৭৮ রানে।
লিডস টেস্টে কোহলিদের ৭৮ রানের গেরো কাটল না। প্রথম ইনিংসে শুধু ৭৮ রানে বাণ্ডিল হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে ২০০-র পিছনে সেই ৭৮ রান। ফলস্বরূপ, ভারতীয় দল তৃতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৭৬ রানে হেরে গেল।
তৃতীয় দিনের শেষে কোহলি ও চেতেশ্বর পূজারা মিলে লড়ছিলেন। শনিবার খেলা শুরু হতেই পূজারার বিদায় খাতায় আজকে কোনও রান না যোগ করেই। বিরাট প্যাভিলিয়নে ফিরলেন ৫৫ রানে। তারপর দলের বাকি সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে দু’অঙ্কের রানে যেতে পেরেছেন রাহানে (১০) ও রবীন্দ জাদেজা (৩০)। বাকিরা সব ডাহা ফেল। ৬৩ রানে শেষ আট উইকেট পড়েছে ভারতের। ভাবা যায়!
প্রথম ইনিংসে অ্যান্ডারসন-ওভারটনের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নায়ক বনে গেলেন ইংল্যান্ড পেসার ওলি রবিনসন। এই ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি। ওভারটন পেলেন তিনটি উইকেট।
https://twitter.com/englandcricket/status/1431604989802291200
লর্ডস টেস্টে জয়ের পরে ভারতীয় ক্রিকেটাররা হাওয়ায় ভাসছিলেন। তাঁরা মনে করে এসেছেন সহজে তারা সিরিজও জিতে নেবেন। কিন্তু ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড কতটা ভয়ঙ্কর, সেটি আরও একবার প্রমাণিত। তারা সিরিজে সমতা ফেরাল এই জয়ের মাধ্যমে, এবার বাকি দুটি টেস্টে সিরিজ দখলে নিতে চাইবে।
https://twitter.com/englandcricket/status/1431600208962523138
ভারতীয় দলের ধারাবাহিকতার অভাব বরাবরই। এই জিতছে তো পরের ম্যাচেই আবার হারছে গো হারানভাবে, কোনও প্রতিরোধ ছাড়া। পরের দুটি টেস্টে ভারতকে জয়ের পথে ফিরতে গেলে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরী।
সবচেয়ে বড় কথা, দলের অধিনায়ক ছন্দে নেই, কোহলির ব্যাটে রান না এলে এই দলের ছন্দে ফিরতে সমস্যা রয়েছে। মুখে নয়, কাজে করে দেখাতে হবে ক্রিকেটারদের। জো রুট বুঝিয়েছেন হম্বিতোম্বি না করলেও ব্যাটে রান আসে, দল সহজে জেতে। রুটের সেঞ্চুরিতেই পুরো দল চাঙ্গা হয়ে গিয়েছে। দলের বোলাররাও ভয়ঙ্কর মেজাজে বোলিং করেছেন।
ভারত ১ম ইনিংস: ৭৮/১০ (রোহিত ১৯, রাহানে ১৮, অ্যান্ডারসন ৬/৩, ওভারটন ১৪/৩)
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৩২/১০ (রুট ১২১, মালান ৭০, শামি- ৯৫/৪)
ভারত ২য় ইনিংস: ২১৫/২ (রোহিত-৫৯, পুজারা-৯১, রবিনসন – ৬৫/৫ )
ইংল্যান্ড জয়ী এক ইনিংস ও ৭৬ রানে। ম্যাচের সেরা : ওলি রবিনসন