
শেষ আপডেট: 23 September 2020 18:30
পাহাড়ি খাঁজে ওঠানামা করতে পারে এই কপ্টার। বায়ুসেনা সূত্র জানাচ্ছে, প্যাঙ্গংয়ের ফিঙ্গার পয়েন্ট, দৌলত বেগ ওল্ডি, দেপসাং ভ্যালির মতো স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে এখন মিরাজ, সুখোই, মিগের মতো কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট নামানো হয়েছে। চিনের বোমারু বিমান বা জে-২০ চেংড়ু ফাইটার জেটের মোকাবিলা করার জন্য মিরাজ, সুখোই ও রাফালের উপরেই ভরসা বেশি। আর কিছুদিনের মধ্যেই লাদাখ সীমান্তে পাঠানো হতে পারে ফ্রান্স থেকে কেনা পাঁচ রাফাল ফাইটার জেটকেও। কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্টের পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি চালানো ও সেনাদের জন্য জরুরি পণ্য বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাল্কা ওজনের হেলিকপ্টারও দরকার। তাই এএলএইচ শ্রেণির ওই দুই কপ্টারকে সীমান্তে পাঠানো হচ্ছে।
[caption id="attachment_262286" align="aligncenter" width="661"]
হ্যাল ধ্রুব-অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার[/caption]
সেই ১৯৭৯ সাল থেকে ভারতীয় বায়ুসেনা ও নৌসেনাতে ৫ টন ওজনের অ্যাডভান্সড মাল্টিরোল লাইট হেলিকপ্টার যোগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে এমন হেলিকপ্টার বানানোর জন্য কেন্দ্রকে প্রস্তাব দেয় হ্যাল। প্রথম এএলএইচ ভার্সন ‘জেড-৩১৮২’ উড়েছিল ১৯৯২ সালে। পরের বছর এএলএইচের প্রোটোটাইপ ‘জেড-৩২৬৮’ ও ন্যাভাল ভার্সন ‘আইএন.৯০১’ এর টেস্ট ফ্লাইট হয়েছিল।
অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার ছাড়াও লাদাখ সীমান্তে হ্যালের তৈরি লাইট ইউটিলিটি কপ্টার পাঠাচ্ছে বায়ুসেনা। ৫০০০ মিটার উচ্চতায় দৌলত বেগ ওল্ডির অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডে সহজেই অবতরণ করতে পারবে এই হেলিকপ্টার। সিয়াচেনের দুটি হেলিপ্যাডেও ওঠানামা করার ক্ষমতা আছে এই কপ্টারের। যে কোনও দুর্গম পাহাড়ি খাঁজের কাছাকাছি নেমে এসে নজরদারি চালাতে পারবে এই কপ্টার। ওজনে হাল্কা হওয়ায় এর গতিও বেশি এবং খুব দ্রুত এই কপ্টার উড়িয়ে শত্রুঘাঁটির খবর নিয়ে আসতে পারবেন বায়ুসেনার পাইলটরা।
[caption id="attachment_262284" align="aligncenter" width="1209"]
লাইট ইউটিলিটি কপ্টার[/caption]
প্যাঙ্গং লেকের উত্তর ও দক্ষিণে ক্রমেই তৎপর হয়ে উঠছে চিনের সেনা। অন্যদিকে, আকসাই চিন, ডোকলামের সীমান্তে নতুন করে সামরিক পরিকাঠামো, হেলিপ্যাড তৈরি হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ট্যাঙ্ক, প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র-সহ মোটর রাইফেল ডিভিশন মোতায়েন করার কাজ চলছে ওই এলাকাগুলিতে। আকসাই চিন থেকে কারাকোরাম পাস হয়ে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে পড়তে পারে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। তাই দৌলত বেগ ওল্ডিতে মোতায়েন করা হয়েছে টি-৯০ ভীষ্ম, টি-৭২ ট্যাঙ্ক। রাতের বেলা দৌলত বেগের পাহাড়ি এলাকার প্রায় ১৬ হাজার ফুট উপর দিয়ে চক্কর কাটছে চিনুক অ্যাটাক কপ্টার। ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, প্রতি মুহূর্তে চিনা বাহিনীর উপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।
লাদাখ সীমান্তে হ্যালের তৈরি রুদ্র তথা হ্যাল-রুদ্র কপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে। রুদ্র কপ্টারের শক্তি চিনের জেট-১৯ অ্যাটাক কপ্টারের থেকেও বেশি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, সশস্ত্র রুদ্র কপ্টারের শক্তি ও প্রযুক্তি মার্কিন অ্যাপাচেও হার মানাবে। রোটারি উইং রিসার্চ অ্যান্ড ডিজাইন সেন্টারের নকশা এবং হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড তথা হ্যালের প্রযুক্তিতে তৈরি ধ্রুব অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার তথা হ্যাল-ধ্রুবের নয়া ভার্সনই হল হ্যাল-রুদ্র। এই অ্যাটাক কপ্টার আকাশ থেকে ভূমিতে মিসাইল ছুড়তে পারে নিঁখুত লক্ষ্যে। অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ওয়ারফেয়ার, আকাশযুদ্ধের জন্যও ব্যবহার করা হয় রুদ্র কপ্টারকে।