
শেষ আপডেট: 19 November 2023 23:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০ বছরের অপেক্ষার পর এল সেই দিন। যার জন্য প্রস্তুতিও ছিল তুঙ্গে। পাড়ার অলি-গলি থেকে শপিং মল, রেস্তোরাঁ থেকে রিসর্ট সবেতেই এলাহি আয়োজনের বন্দোবস্ত। জায়ান্ট স্ক্রিন থেকে দেদার খানা-পিনার অফারে পারফেক্ট মেজাজ আনতে খামতি ছিল না কোনও কিছুরই। কিন্তু সন্ধ্যে যত এগোতে লাগল ততই যেন ভাঁটা পড়তে থাকে আনন্দে। আর রাত ৯ টা ২০ মিনিটের আশেপাশে সবই চুরমার। সকালের বিশ্বকাপ জেতার ‘ মুড’ ঢেকে গেল এক রাশ হতাশায়।
একে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ফাইনাল, তার উপর আবার রবিবার। এ যেন অঘোষিত ছুটির দিন সর্বত্রই। শহরের বেশ কিছু বেসরকারী অফিস খোলা ছিল এদিন। তবে কি ফাইনাল খেলা দেখবেন না কর্মীরা? দুপুরের মধ্যে একাধিক অফিসে রীতিমতো নোটিস জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘অফিস ছুটি হয়ে যাবে তাড়াতাড়ি। বাড়ি গিয়ে ভারতকে সমর্থন করুন।’
সকালের পাড়ার ক্লাবে যেমন ছিল চড়ুইভাতির কায়দায় রান্নাবান্না, আবার দুপুর ২ টো থেকেই সেখানেই সকলে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখতে জড়ো হয়েছিলেন। রাতে আবার ছিল বাজি পোড়ানোর পরিকল্পনাও। কিন্তু সবই যেন বদলে গেল।
টিভিতে পাড়ার জায়ান্ট স্ক্রিনে সামনে বুক বেঁধেছিল উৎসুক চোখ। রোহিত শর্মার একেকটা চারে চিৎকার উঠছিল। কিন্তু তা স্থায়ী হল না বেশিক্ষণ। কোথায় ২০১১-র পুনরাবৃত্তি, সে তো উল্টে ফিরে এল বিশ বছর আগের বিষন্নতার রাত। ঘড়িতে তখন রাত ন’টা ষোলো। ৪৮ বলে জেতার জন্য ১০ রান করতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। পাড়ার জায়েন্ট স্ক্রিন বন্ধ করে দিলেন কেউ কেউ। আবার বাড়ির টিভির সুইচ অফ করে কেউ আড্ডা দিতে বেরিয়ে গেলেন পাড়ায়।
ভারত জিতলে ফাটাবেন, কালীপুজোর আতসবাজি থেকে দু’দশটা সরিয়ে রেখেছিলেন সকলেই। কেউ কিনে এনেছিলেন ভারতের পতাকা, দেশের জার্সি কেনার জন্য সকাল থেকে খেলাধূলার সরঞ্জামের দোকানে উদোম ভীড়। ভারত জিতলে জমাটি সেলিব্রেশনের মশলা ছিল প্রস্তুত। কিন্তু রান্নাটাই যে হল না শেষ পর্যন্ত।