দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারত আর সন্ত্রাসবাদীদের অসহায় টার্গেট নয়। সন্ত্রাসবাদীরা আমাদের যা ক্ষতি করবে, আমরা তা সুদসমেত ফেরত দেব। শুক্রবার তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীতে এক নির্বাচনী জনসভায় একথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিরোধী দলগুলির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা নানারকম বিবৃতি দিয়ে দেশের ক্ষতি করছে এবং পাকিস্তানের সুবিধা করে দিচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের কথাও উল্লেখ করেন।
তাঁর কথায়, দুঃখের বিষয় হল, কয়েকটি দল মোদীকে ঘৃণা করতে গিয়ে ভারতকেই ঘৃণা করছে। সারা বিশ্ব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইকে সমর্থন করে। কিন্তু কয়েকটি দল তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সারা দেশ যখন সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন করছে তারা তখন বাহিনীকে সন্দেহ করছে।
এরপরে তিনি বলেন, যারা সেনাবাহিনীর প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করছে, তাদের বিবৃতিগুলি পাকিস্তানের সংসদে ফলাও করে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তানের রেডিওতেও তাদের বিবৃতি শোনানো হয়েছে। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা কি সেনাবাহিনীকে সমর্থন করেন না তাকে সন্দেহ করেন?
পাকিস্তানে জইশ ই মহম্মদের শিবিরে ভারতের বায়ুসেনার বোমাবর্ষণের কথা উল্লেখ করেন মোদী। এরপরে কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, আগে খবরে শোনা যেত, বায়ুসেনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাতে চায়, কিন্তু ইউপিএ সরকার বাধা দিচ্ছে। এখন শোনা যায়, সেনাবাহিনীর ইচ্ছামতো কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। এই দেশ জঙ্গিদের যে কোনও আক্রমণের জবাব দেবে। গত কয়েকদিনের ঘটনায় আমাদের সেনাবাহিনীর শক্তি বোঝা গিয়েছে। এতে আমাদের দেশও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার কথা তুলে মোদী বলেন, ২৬/১১ ঘটার পরে সারা দেশ আশা করেছিল জঙ্গিদের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। পুলওয়ামার ঘটনার পরে আপনারা দেখেছেন, আমাদের সাহসী সৈনিকরা কী করেছে।
বায়ুসেনার অফিসার অভিনন্দন বর্তমানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি তামিলনাড়ুরই মানুষ। সারা দেশ তাঁর জন্য গর্বিত। এর জবাবে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী পাঁচ মিনিটের জন্যও তাঁর জনসংযোগ বন্ধ রাখতে পারেন না। মাত্র দু’দিন আগেই ২১ টি বিরোধী দল একযোগে বিবৃতি দিয়ে বলে, সেনাবাহিনীর জীবনদান নিয়ে খোলাখুলি রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী।