দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন করোনা রোগীর থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে অনেকের মধ্যে। সেইসব রোগীদের চিহ্নিত করাই যাচ্ছে না। এমনটাই দাবি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান মন্ত্রকের। সরকারি তথ্য বলছে, বেশিরভাগেরই শরীরে সংক্রমণের উপসর্গ নেই। তাই রোগ চাপা পড়ে থাকছে। চুপিসাড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে আরও বেশিজনের মধ্যে। ট্রান্সমিশন রেটও বাড়ছে।
কেন্দ্রের হিসেব বলছে, দেশে গড়ে প্রতিজন করোনা রোগী থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে অন্তত ৯০ জনের মধ্যে। তাদেরকেই শণাক্ত করা যাচ্ছে না। দিল্লি ও কেরলে প্রতিজন কোভিড রোগীর থেকে অন্তত ২৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, যাদের হদিশ মেলেনি। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে এই সংখ্যাটা অবশ্য বেশি। প্রতিজন কোভিড রোগীর হিসেবে তিনশোর বেশি সংক্রামিত রোগীকে চিহ্নিত করা যায়নি।
করোনা সংক্রমণের হার কতটা বাড়ছে, কতজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এই হিসেব বের করার জন্য গাণিতিক মডেল বানিয়েছে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান মন্ত্রক। এই মডেলেই দেখা গেছে, দেশে গড়ে প্রতিজন কোভিড রোগীর হিসেবে অন্তত ৯০ জন আক্রান্তের কোনও খোঁজ মেলেনি। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান মন্ত্রকের কমিটির সদস্য ও আইআইটি কানপুরের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের গবেষক মনীন্দ্র আগরওয়াল বলেছেন, বেশিরভাগ রাজ্যেই এই গড়ে হিসেব ৭০-১২০। ব্রিটেন ও আমেরিকায় যেখানে প্রতিজন কোভিড রোগীর হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা কমে ১০-১৫ জন হয়েছে। গবেষক বলেছেন, কোভিড টেস্ট বাড়ানোই শুধু নয়, কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়েও ধরা পড়বে এই রোগীরা।
দেশজুড়ে সেরো সার্ভে বা অ্যান্টিবডি টেস্টের রিপোর্ট চমকে দেওয়ার মতো। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর)তথ্য বলছে, অগস্ট মাসে দেশে করোনা কার্ভ শীর্ষে উঠেছিল। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে অন্তত ৭ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন। বেশিরভাগই অ্যাসিম্পটোমেটিক বা উপসর্গহীন। আইসিএমআর বলেছে, দেশের জনসংখ্যার প্রায় সাত শতাংশের শরীরেই করোনার অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। সমীক্ষা বলছে, প্রতি দশ জনের মধ্যে ৯ জনই উপসর্গহীন। অর্থাৎ শরীরে ভাইরাস রয়েছে অথচ রোগের লক্ষণ নেই। বেশিরভাগ রোগী বুঝতেই পারেননি তাঁরা কখনও ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিলেন। আবার করোনা হয়ে সেরে গেছে এমন রোগীদেরও চিহ্নিত করা গেছে সেরো সার্ভেতে। রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ দেখে বোঝা গেছে, তাঁরা কখনও না কখনও ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ভাইরাল লোড কম থাকায় জটিল রোগ হয়নি, মৃদু সংক্রমণের পরেই তা সেরে যায়।
দেশে অধিকাংশ করোনা রোগীকে চিহ্নিত করা যায়নি এমন রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল নানা সূত্র থেকে। বলা হয়েছিল, কোভিড টেস্ট ঠিকমতো না হওয়ায় ৩৮ লাখের বেশি রোগীকে শনাক্ত করাই যায়নি। বিহার, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্রের মতো কয়েকটি রাজ্যে লাখের বেশি কোভিড রোগীকে শনাক্ত করাই যায়নি। সংখ্যাগুলোও চমকে দেওয়ার মতো। যেমন মহারাষ্ট্রে ৬ লাখের বেশি করোনা রোগীকে হিসেবেই ধরা হয়নি, কারণ এদের রোগ চিহ্নিত করা যায়নি। খাতায়কলমে হিসেব রয়েছে কোভিড পজিটিভ রোগী ১৭ লাখের বেশি, অথচ আসল সংখ্যা ২৪ লাখ ছাড়িয়েছে। দিল্লিতে চার লাখের বেশি কোভিড রোগীর হিসেব নেই, তেলঙ্গানা, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশে তিন লাখ, পশ্চিমবঙ্গে এক লাখের কিছু বেশি, কেরলে প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি কোভিড রোগী হিসেবের খাতার বাইরে।