দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি আর্থিক বছরে জুন মাসে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে একমাত্র বিকশিত হয়েছে কৃষি ক্ষেত্র। এবছর বর্ষায় ভাল বৃষ্টি হয়েছে। তার ওপরে বাড়ানো হয়েছে চাষের এলাকা। সেজন্যই সামগ্রিকভাবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কৃষির এই বিকাশ দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, তাতে সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। কারণ গ্রামেও এখন দ্রুত হারে ছড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ। এই অবস্থায় আগামী দিনে কৃষি উৎপাদন মার খাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
চার দশকে এই প্রথম পুরো আর্থিক বছরেই সংকুচিত হতে চলেছে দেশের অর্থনীতি। ম্যানুফ্যাকচারিং ও পরিষেবা ক্ষেত্রে কাজ কমছে ব্যাপক হারে। এই অবস্থায় অনেকে আশা করছেন, জিডিপির সংকোচন কিছুটা হলেও ঠেকাবে কৃষি। ন্যাশনাল কোল্যাটারাল ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের সিইও তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিরাজ চৌধুরি বলেন, "কৃষি একপ্রকার সেফটি নেটের মতো। আমাদের জিডিপির ১৫ শতাংশ আসে কৃষিক্ষেত্র থেকে। দেশের বিরাট সংখ্যক মানুষ কৃষিতে যুক্ত। শুধু ভাল কৃষি উৎপাদন হলে অর্থনীতির খেলায় জেতা যায় না, কিন্তু ড্র করা যায়।"
গত ত্রৈমাসিকে জিডিপি যেখানে ২৩.৯ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, সেখানে কৃষিতে বিকাশ হয়েছে ৩.৪ শতাংশ। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার চিফ ইকনমিস্ট সৌম্যকান্তি ঘোষ বলেন, কৃষিতে যে ভাল বিকাশ হবে, তা প্রত্যাশিত ছিল। কারণ সরকার ওই ক্ষেত্রে নানা বাধা সরিয়ে নিয়েছিল আগেই।
সৌম্যকান্তি ঘোষ উল্লেখ করেছেন, গত ত্রৈমাসিকে জিডিপির মাত্র ৫.৭ শতাংশ এসেছে কৃষি থেকে। কিন্তু তার আগের দু'টি ত্রৈমাসিকে জিডিপির ১৩.৫ শতাংশ কৃষি থেকে এসেছিল। তার ওপরে গ্রামাঞ্চলে যেভাবে কোভিড ছড়াচ্ছে, আগামী দিনে কৃষির বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
ভারতে এখন রোজ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশে সংক্রামিতের সংখ্যা ছুঁতে চলেছে ৪০ লক্ষ।
গত বর্ষায় ধান, তৈলবীজ, তুলো ও অন্যান্য শস্য চাষ করা হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লক্ষ হেক্টর জমিতে। সেখানে ব্যাপক ফলন হতে পারে। এর ফলে খাদ্যশস্যের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু ফসলের দাম কমলে কৃষক ও চাষের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য পেশার মানুষের আয় কমবে। দেশে যত খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়, তার বড় অংশ কিনে নেয় বিভিন্ন হোটেল। অতিমহামারীর জেরে বহু হোটেলই বন্ধ হয়ে আছে। ফলে আগামী দিনে খাদ্যশস্যের ভাল বাজার নাও পাওয়া যেতে পারে। তাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা।