দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৯ সালে ভারতের জন্য দু’টি আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন আমেরিকার গোয়েন্দারা। প্রথমত পাকিস্তানে যে জঙ্গিরা ঘাঁটি বানিয়ে রয়েছে, তারা ভারতে আক্রমণ চালাতে পারে। দ্বিতীয়ত, লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতে লাগতে পারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স নামে গোয়েন্দা সংস্থার ডায়রেক্টর ড্যান কোটস বলেন, এবছর সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। মূলত তিনটি কারণে অশান্তি শুরু হতে পারে। প্রথমত, জুলাই মাসের মাঝামাঝি আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। তখন তালিবান বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। দ্বিতীয়ত পাকিস্তান জঙ্গিদমনে বিশেষ সক্রিয় হয়নি। তৃতীয়ত ভারতে সাধারণ নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হতে পারে।
আমেরিকার গোয়েন্দাদের মতে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে আদৌ গুরুত্ব দিচ্ছে না। যে জঙ্গি সংগঠনগুলি পাকিস্তানের পক্ষে বিপদের কারণ কেবল সেগুলির বিরুদ্ধে তারা অভিযান চালায়। আমেরিকা তালিবানের বিরুদ্ধে এতদিন ধরে যে অভিযান চালাচ্ছে তা ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে প্রধানত পাকিস্তানের জন্য।
আমেরিকার গোয়েন্দারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনকে পাকিস্তান সমর্থন করে। তারা সেই সুযোগে পাকিস্তানে শক্ত ঘাঁটি বানিয়ে ফেলেছে। পাকিস্তান থেকে তারা ভারতে ও আফগানিস্তানে আক্রমণ চালায়। আফগানিস্তানে আমেরিকার সেনার ওপরেও পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা হামলা করে।
ড্যান কোটস গত মঙ্গলবার আমেরিকার সেনেট সিলেক্ট কমিটি অন ইনটেলিজেন্স এজেন্সিসের সামনে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে তাঁর মতামত জানান। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিআইএ-র ডিরেক্টর জিনা হ্যাসপেল, এফবিআই-এর ডিরেক্টর ক্রিস্টফার রে এবং সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের ডিরেক্টর রবার্ট অ্যাশলে। তাঁদের মধ্যে জিনা হ্যাসপেল গত সপ্তাহেই ভারতে ঘুরে গিয়েছেন।
ড্যান কোটস সেনেটের সামনে লিখিত নথি পেশ করেন। তাতে বলা হয়েছে, আমরা মনে করি এবছর আফগান সরকার অথবা তালিবান, কেউই আফগানিস্তানে বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে না। কিন্তু সেখানে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ফৌজকে সক্রিয় থাকতেই হবে।
ভারতে ভোটের আগে জঙ্গিরা কীভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উসকানি দেবে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে গত বছরে এদেশে জঙ্গি মোকাবিলায় বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের হতাহত হওয়ার সংখ্যা কমেছে। অন্যদিকে জঙ্গিরা খতম হয়েছে আরও বড় সংখ্যায়। পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, প্রতিবারই ভোটের আগে দেশের নানা স্থানে জঙ্গিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু এবার তারা হয়তো গোলমাল পাকাতে বিশেষ সফল হবে না।