দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল বলেছিলেন, সার্ক সম্মেলনে আমন্ত্রণ করা হবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। বুধবার দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করার প্রশ্নই নেই। শুধু তাই নয়, সার্ক সম্মেলনে মোদীকে আমন্ত্রণ করার কোনও অধিকার নেই পাকিস্তানের। কারণ ভারত সার্কের অন্যতম সদস্য। তার সম্মতি ছাড়া সার্ক সম্মেলন হতেই পারে না।
২০১৪ সালে শেষবার সার্ক সম্মেলন হয়েছিল কাঠমাণ্ডুতে। মোদী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ২০১৬ সালে ইসলামাবাদে ওই সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই জম্মুর উরিতে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা সেনা ছাউনিতে হামলা চালায়। ভারত জানিয়ে দেয়, পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলনে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে সম্মেলনই ভণ্ডুল হয়ে যায়।
কিছুদিন আগে কর্তারপুর করিডোর নির্মাণের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলায় ভারত। তার পরে দুই দেশের সম্পর্কে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। পাকিস্তানের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আগেই বলেছিলেন, বন্ধুত্বের জন্য ভারত যদি এক পা এগয়, আমরা দুই পা এগব। তাই আমরা নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানাতে চলেছি।
একটি সুত্রের খবর, কর্তারপুর করিডোর তৈরি উপলক্ষে ভারতের অনেক সাংবাদিক এখন পাকিস্তানে রয়েছেন। পাকিস্তান তাঁদের সামনে প্রমাণ করতে চায়, আমরা আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও ভারত আসতে রাজি হচ্ছে না। অর্থাৎ ভারতই অনমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে।
বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কর্তারপুর করিডোর নির্মাণ করা মানে এই নয় যে, আমরা তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসব। আগে তারা সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়া বন্ধ করুক। তার পরে আলোচনা করা যাবে।
তাঁর কথায়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আর কর্তারপুর করিডোর তৈরি দু’টি ভিন্ন বিষয়। আমরা গত ২০ বছর ধরে ওই করিডোর নির্মাণের কথা বলে আসছি। পাকিস্তান যে এতদিনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে তা আনন্দের বিষয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। আমরা বরাবরই বলে এসেছি, সন্ত্রাস আর আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। আলোচনার সঙ্গে কর্তারপুর করিডোরের কোনও সম্পর্ক নেই।
একটি মহলের ধারণা, ইমরান খান চান, দু’বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সার্ক সম্মেলন চালু করতে। যদি ইসলামাবাদে ওই সম্মেলন হয়, তাহলে ইমরান খান সরকারের বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু ভারত বাদে সার্কের অপর সদস্যরাও এখন সম্মেলনে রাজি হবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে আর কিছুদিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হবে। শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক ডামাডোল চলছে। তাদের পক্ষে এখন সার্ক নিয়ে মাথা ঘামানো সম্ভব নয়।