
শেষ আপডেট: 8 July 2020 18:30
ডক্টর সীতাভ্র সিনহা[/caption]
এই আর নম্বর এবং কোভিড ট্রান্সমিশন রেট একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সেটা কীভাবে? গবেষক বলেছেন সেটা বুঝতে হলে আগে আর নম্বর জানতে হবে। এই আর নম্বর হল ‘এফেকটিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর’ । এমন একটা গাণিতিক হিসেব যার মাধ্যমে সংক্রমণের হার মাপা হয়। একজন করোনা রোগীর থেকে কতজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সেটা মাপা হয় আর নম্বর দিয়ে। এই হিসেবের মাপকাঠিতেই নির্ণয় করা হয় সংক্রমণ কতটা ছড়িয়ে পড়ল এবং কতজনের মধ্যে ছড়াল। শুরুতে এই সংক্রমণের হার মাপার জন্য রিপ্রোডাকশন নম্বর তথা ‘আর-নট’ স্কেলের হিসেব প্রয়োগ করছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। ১.৫ থেকে ৪.০ মাত্রার সেই স্কেল কম থেকে যত বেশির দিকে যাবে, সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ততটাই বাড়বে। রিপ্রোডাকশন নম্বরের স্কেল যদি ২.৫ থেকে শুরু করা যায়, তাহলে দেখা যাবে একজন সংক্রামিত সামাজিক দূরত্বের বিধি না মানলে ৩০ দিনে ৪০৬ জনকে আক্রান্ত করতে পারবেন। এই হিসেবই এখন আর নম্বর (R)দিয়ে মাপা হচ্ছে।
গবেষক ডক্টর সীতাভ্র সিনহা বলেছেন, গত ৪ মার্চ দেশের আর নম্বর ছিল ১.৮৩। এই হিসেব মানে হল একজন আক্রান্ত রোগী গড়ে ১.৮৩ জনকে সংক্রামিত করতে পারবেন। ওই সময় উহানের আর নম্বর ছিল ২.১৪ এবং ইতালির ২.৭৩, যা ভারতের থেকে অনেক বেশি। অর্থাৎ সংক্রমণ ছড়ানোর হার বেশি। ভারতে ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হওয়ার পরে এই নম্বর কমতে থাকে। ৬ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত আর নম্বর নেমে আসে ১.৫৫-এ। জুনের প্রথমে সেটাই পৌঁছয় ১.৪৯ পয়েন্টে। জুনের মাঝামাঝি আরও কমে আর নম্বর থিতু হয় ১.১২ পয়েন্টে।
আর নম্বরের এই ধারাবাহিক পতন দেখেই লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে আনলক শুরুর পরেই জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ফের আর নম্বর বেড়ে পৌঁছে যায় ১.১৯-এ। সীতাভ্র সিনহার কথায়, গত ২ জুলাই থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত আর নম্বর বেড়ে হয়েছে ১.১৯। সেই সঙ্গেই সংক্রমণ ছড়ানোর হার তথা ট্রান্সমিশন রেটও বেড়ে গেছে।
ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সায়েন্সের রিপোর্ট বলছে, দেশে এখন আর নম্বর সবচেয়ে বেশি কর্নাটকে। প্রায় ১.৬৬ পয়েন্ট। তেলঙ্গানায় ১.৬৫, অন্ধ্রপ্রদেশে ১.৩২। এই তিন রাজ্যেই কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি হচ্ছে দ্রুত গতিতে। বিশেষত বেঙ্গালুরুতে সংক্রমণ একটা পর্যায়ে গিয়ে স্থিতিশীল হলেও ফের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে চলেছে। একইভাবে আক্রান্ত বেড়ে চলেছে তেলঙ্গানায়।
আর নম্বর শুরুতে বাড়লেও এখন কমের দিকে বেশ কয়েকটি রাজ্যে। দিল্লিতে ১৩-১৬ জুনের মধ্যে আর নম্বর তথা ট্রান্সমিশন রেট ছিল ১.২৫। এখন সেটা একের কাছাকাছি চলে এসেছে। হরিয়ানা ও গুজরাটেও আর নম্বর কমেছে। গুজরাটে এখন আর নম্বর রয়েছে ১.১৫ পয়েন্টে। কোভিড ট্রান্মমিশন রেট বাড়তে থাকলে জুলাইয়ের শেষে গিয়ে দেশে কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্য কতটা বাড়তে পারে তার একটা সম্ভাব্য হিসেব দেওয়া হয়েছে গবেষকের গাণিতিক মডেলে। বলা হয়েছে, আর নম্বর যদি না কমে তাহলে জুলাইয়ের শেষে গিয়ে দেশে করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৬ লাখে। মহারাষ্ট্রে সেই সংখ্যা হবে দেড় লাখের কাছাকাছি আর তামিলনাড়ুতে এক লাখ।