দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতে করোনা অতিমহামারীর মধ্যে দেখা গিয়েছে আশার আলো। এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা বলছেন, দেশে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রোজ আট থেকে নয় হাজার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু শতাংশের বিচারে কমেছে আক্রান্তের হার। যে রাজ্যগুলিতে ওই রোগের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি, সেখানেও আক্রান্তের হার কমার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।
নির্দিষ্ট হিসাব দিয়ে বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছেন, মে মাসের শুরুতে প্রতিদিন দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল ৬.২ শতাংশ হারে। পরে তা বেড়ে সাত শতাংশে দাঁড়ায়। তারপর বৃদ্ধির হার কমতে থাকে। গত মঙ্গলবার দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৪.৬৭ শতাংশ।
দেশে যত জন করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন, তাঁদের এক তৃতীয়াংশই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। সেখানেও গত দু’সপ্তাহ ধরে আক্রান্তের হার কমেছে। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কমছে জাতীয় স্তরে আক্রান্তের হার। মে মাসের মাঝামাঝি অবধি মহারাষ্ট্রে রোগ সংক্রমণের দৈনিক হার ছিল জাতীয় হারের চেয়ে এক শতাংশ বেশি। কিন্তু ২ জুন সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছিল ৪.০৫ শতাংশ হারে। তা জাতীয় হারের চেয়ে কম।
দেশে যে পাঁচটি রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একমাত্র দিল্লিতে আক্রান্তের হার জাতীয় হারের চেয়ে বেশি। গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬০০ মানুষ। সেখানে প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ৬.২৬ শতাংশ হারে। তামিলনাড়ুতেও আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় হারের চেয়ে সামান্য বেশি।
করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে গুজরাত ও রাজস্থান। গুজরাতে করোনা আক্রান্তের দৈনিক সংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.৫০ শতাংশ। রাজস্থানে ওই হার ৩.২১ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দৈনিক প্রায় তিন শতাংশ হারে।
গত মঙ্গলবার দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লক্ষ। এদিন সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে আট হাজারের বেশি মানুষ। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৩০০-র বেশি।