দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য তারপর থেকে দুই দেশের সেনাকর্তারা তিনবার বৈঠকে বসেন। শেষবার বৈঠক হয় ৩০ জুন। কিন্তু ভারত সরকার থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, তিনবার আলোচনার পরেও সীমান্ত সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান পাওয়া যায়নি। আগামী দিনে দুই দেশের সেনাকর্তারা ফের বৈঠকে বসবেন।
দিল্লি থেকে একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক স্তরে আরও আলোচনা হতে পারে। সীমান্তে যাতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, সেজন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে ২২ জুন দুই দেশের সেনাকর্তারা আলোচনায় বসেন। তারপরে বলা হয়েছিল, খুবই হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে কথা হয়েছে। দু'পক্ষই সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে আনার ব্যাপারে একমত হয়েছে। কিন্তু ৩০ জুনের বৈঠক সম্পর্কে শুধু বলা হয়েছে, কোভিড ১৯ অতিমহামারীর সময়কার বিধিনিষেধ মেনে উভয়পক্ষ কথা বলেছে।
এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই লাদাখে চিন সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ১৫ জুন দুই বাহিনী সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। চিনেরও ৪৫ জন সৈনিক মারা গিয়েছে বলে জানা যায়।
এপ্রিল মাসে জানা যায়, প্যাংগং লেকের ফিঙ্গারস এলাকায় ঢুকে পড়েছে চিনা বাহিনী। এছাড়া গালওয়ান উপত্যকার হট স্প্রিং অঞ্চল ও উত্তরে দেপসাং সমতলেও চিনাদের গতিবিধি লক্ষ করা গিয়েছে। ৫ মে প্যাংগং লেক অঞ্চলে ভারত ও চিনের বাহিনীর একদফা সংঘর্ষ হয়।
সম্প্রতি চিন ফিঙ্গারস অঞ্চলটি তাদের বলে দাবি করেছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, ভারতের জমিতে চিনের ম্যাপ আঁকা হয়েছে। সেইসঙ্গে মান্দারিন ভাষায় কিছু লিখে রাখা হয়েছে।
গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পরেই ভারতে চিনা পণ্য বর্জন করা শুরু হয়েছে। গত সোমবার টিকটক সহ ১৫ টি চিনা অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ হিসাবে সরকার জানায়, ওই অ্যাপগুলি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি বললেন, আগামী দিনে কোনও হাইওয়ে নির্মাণ প্রকল্পেও চিনা সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা হবে না। এদেশে কোনও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও যাতে চিনারা বিনিয়োগ করতে না পারে, সেদিকেও সরকার নজর রাখবে।