দ্য ওয়াল ব্যুরো : যতদূর জানি আমরা এখন স্টেজ-টু এ রয়েছি। এখনও পর্যন্ত স্টেজ থ্রি শুরু হয়নি। মঙ্গলবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব। তাঁর কথায়, “থার্ড স্টেজ মানে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। আশা করি আমাদের সেই পর্যায়ে যেতে হবে না।” অর্থাৎ তাঁর আশা করোনাভাইরাস বেশি লোকের মধ্যে ছড়াবে না। তবে এব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত যত ভালভাবে বন্ধ রাখতে পারব, সংক্রমণ ঠেকাতে তত সুবিধা হবে। কিন্তু কমিউনিটি ট্রান্সমিশন যে হবে না, একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।”
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের চারটি পর্যায় আছে। প্রথম পর্যায়ে বিদেশ থেকে আসা লোকজন ওই ভাইরাস বহন করে আনে। একমাত্র যারা বিদেশ থেকে আসছে, তারাই ওই রোগে আক্রান্ত হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে বিদেশ থেকে আসা লোকজনের সংস্পর্শে এসে তার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতরা ওই রোগে আক্রান্ত হন। একে বলে লোকাল ট্রান্সমিশন। এতে অল্পসংখ্যক লোক আক্রান্ত হন। কীভাবে তাঁরা আক্রান্ত হলেন, তা সহজে বোঝা যায়।
তৃতীয় পর্যায়ে এক বিরাট এলাকা জুড়ে মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হয়। এই পর্যায়ে বোঝাই যায় না কোনও আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে কীভাবে সংক্রমণ ঘটল। ইতালি ও স্পেন এখন স্টেজ-থ্র-এ রয়েছে।
ফোর্থ স্টেজটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। এই পর্যায়ে দেশ জুড়ে কোভিড-১৯ মহামারী আকারে দেখা যায়। চিনে এখন তাই হয়েছে।
গত ডিসেম্বর থেকে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। বিশ্ব জুড়ে এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন ৭ হাজার মানুষ। এরই মধ্যে গত সোমবার প্রথম মানুষের দেহে ওই রোগের টিকা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষামূলকভাবে এক ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ রোগের প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থার খবর, সিয়াটলের কাইসার পারমানেন্টে ওয়াশিংটন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এখন অপেক্ষা করছেন, ওই ব্যক্তির শরীরে টিকার কী প্রভাব পড়ে দেখার জন্য।
একটি সূত্রে জানা যায়, যে ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া হয়েছে, তাঁর নাম জেনিফার হলার। বয়স ৪৩। এক প্রযুক্তি সংস্থায় ম্যানেজারের কাজ করেন। তাঁর দু’টি সন্তান আছে। টিকা নেওয়ার পর বলেছেন, মানুষের স্বার্থে যে কিছু করতে পারছি, তা ভেবে ভাল লাগছে।
জেনিফারকে যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, তার নাম এমআরএনএ-১২৭৩। ম্যাসাচুসেটসের বায়োটেক সংস্থা মডার্না ইনকর্পোরেটেড ওই প্রতিষেধক তৈরি করেছে।