
শেষ আপডেট: 4 May 2020 18:30
আইআইসিটি জানিয়েছে, রেমডেসিভিরের নির্মাতা সংস্থা যেহেতু গিলেড সায়েন্সেস তাই তাদের থেকে ওষুধ তৈরির লাইসেন্স চাওয়া হতে পারে, না হলে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি অনুমোদনেই দেশের স্বার্থে এই ওষুধ তৈরি করা হতে পারে। গিলেড সায়েন্সেসের সিইও ড্যানিয়েল ও’ডে গত ২৯ এপ্রিলই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন, বিশ্বজুড়েই ওষুধ নির্মাতা সংস্থা ও ফার্মাসিউটিক্যালসগুলিকে একসঙ্গে করেই এই ওষুধ তৈরির কাজ শুরু হবে। করোনার সংক্রমণ থামাতে রেমডেসিভির যদি কার্যকরী প্রমাণিত হয় তাহলে করোনা আক্রান্ত দেশগুলি এই ওষুধের উৎপাদন করতে পারে।
করোনা রোগীদের উপরে রেমডেসিভিরের সুফল লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর ও হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফৌসি। তিনি বলেছেন, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার নানা জায়গায় এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। গিলেড সায়েন্সেস নিজেও জানিয়েছে, প্রথম দফার ট্রায়ালে দেখা গেছে এই ওষুধ রোগীর শরীরে ইনজেক্ট করলে ১১ দিনের মধ্যে সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তবে গিলেড সায়েন্সেস এও দাবি করেছে, সংক্রমণ যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলেই রেমডেসিভিরের কাজ খুব দ্রুত হয়। অতি সঙ্কটাপন্ন রোগীর শরীরে এই ওষুধ কীভাবে কাজ করবে সেটা ক্লিনিকাল ট্রায়ালের পরবর্তী রিপোর্ট আসার পরেই বলা যাবে।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রেমডেসিভিরের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। এই প্রজেক্টের অন্যতম গবেষক ভারতীয় বংশোদ্ভূত অরুণা সুব্রহ্মণ্যম। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ইমিউনোকম্প্রোমাইজড হোস্ট ইনফেকসিয়াস ডিজিজ বিভাগের প্রধান ও চিফ ক্লিনিকাল অফিসার। জানিয়েছেন, দু’টি পর্যায়ে রোগীদের উপর ট্রায়াল শুরু হয়েছে স্ট্যানফোর্ডে। কিছু রোগীর শরীরে পাঁচদিন ধরে একটা নির্দিষ্ট ডোজে রেমডেসিভির প্রয়োগ করা হয়েছে, অন্যদের দশ দিন ধরে ওই ওষুধের ডোজ দেওয়া হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই একই রেজাল্ট পাওয়া গেছে। পাঁচদিনের কোর্সে যাঁদের রেমডেসিভিরের ডোজ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের সংক্রমণ যতটা কমেছে, দশদিনের কোর্স করা হয়েছিল যাঁদের উপরে তাঁরাও একইভাবে উপকৃত। অরুণার কথায়, এই রোগীদের এখনও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ওষুধ কতটা কার্যকরী হচ্ছে, কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে কিনা সেটা জানার পরেই রিপোর্ট পেশ করা হবে।