দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইনত এদেসে মেয়েদের বিয়ের বয়স অন্তত ১৮। সেটিকেই আরও খানিকটা বাড়ানো যায় কিনা, তা দেখার জন্য গত বছর এক বিশেষ টাস্ক ফোর্স গড়েছিল মোদী সরকার। ওই টাস্ক ফোর্সের রিপোর্ট বলছে, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স বাড়িয়ে ২১ বছর করা যায়। গত মাসেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকের দফতরে রিপোর্ট জমা করে টাস্ক ফোর্স। ফোর্সের নেতৃত্বে রয়েছেন সমতা পার্টির প্রধান জয়া জেটলি এবং নীতি আয়োগের সদস্য ভিকি পাল।
এক সরকারি কর্তার কথায়, "রিপোর্টে বলা হয়েছে বিয়ের বয়স ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা যেতে পারে, তবে তা করতে হবে ধাপে ধাপে। যেহেতু এতদিনের আইন ও সামাজিক কাঠামো রাতারাতি বদল করা সম্ভব নয়, তাই এই পরিবর্তনের জন্য রাজ্যগুলিকে যথেষ্ট সময় ও সুযোগ দেওয়া হবে। একেবারে তৃণমূল স্তরে সচেতনতা ও প্রচার না চালালে এই বদল সম্ভব নয়।" প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালে থেকে ভারতের আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮।
এর পরে গত বছর জুন মাসে গড়া হয় বিশেষ টাস্ক ফোর্স। স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রক, নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরস উচ্চশিক্ষা দফতর, স্কুলশিক্ষা ও স্বাক্ষরতা মন্ত্কত এবং আইন মন্ত্রকের তরফে সমস্ত বিভাগ থেকে সদস্যদের নিয়ে গড়া হয় ফোর্স। নেতৃত্বে ছিলেন জয়া জেটলি ও ভিকে পাল।
গত বছরের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন, সরকারের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়সে কোনও বদল আনা প্রয়োজন কিনা। অপুষ্টির সঙ্গে লড়তে গেলে এটা একটা জরুরি পদক্ষেপ বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, "আমরা একটা কমিটি গড়েছি, যারা দেখবে কোনও মেয়ে যেন অপুষ্টিতে না ভোগে এবং ঠিক সময়ের আগে যেন বিয়ে না দেওয়া হয় তাদের। ওই কমিটির রিপোর্ট দেখে তার পরে মেয়েদের বিয়ের বয়সের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
এই ভাবনাচিন্তার বিশেষ কারণ হল, অনেক ক্ষেত্রেই শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে তৈরি হওয়ার আগেই মেয়েদের উপর সংসারের দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে চলে আসে সন্তানের দায়িত্বও৷ শরীর সন্তান ধারণের উপযুক্ত হওয়ার আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়ে মেয়েরা৷
সূত্রের খবর, এই ফোর্সের পর্যবেক্ষণ হল, একটি মেয়ের প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার ন্যূনতম বয়স হল ২১। এছাড়াও, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বলছে, কিছুটা দেরি করে কন্যাসন্তানদের বিয়ে দিলে তা সব দিক থেকেই কল্যাণকর। স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনা করলেও তা লাভ বই ক্ষতি হয় না। মেয়েটির বিবাহ পরবর্তী সাংসারিক ও পারিবারিক গঠনও অনেক সুস্থ ও পোক্ত হয়। মাতৃত্বকালীন ঝুঁকি অনেক কমে। শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিও কমে, মায়ের বয়স ও সুস্থতা সঠিক হলে।
এ বিষয়গুলির পাশাপাশি টাস্ক ফোর্সের রিপোর্টে জোর দেওয়া হয়েছে সেক্স এডুকেশন বা যৌনশিক্ষার ওপরেও। কারণ বিয়ের ন্যূনতম বয়স নিয়ে শুধু আইনি বাধা চাপিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। এ নিয়ে একটি মেয়েরও সবটা জানা ও বোঝা দরকার। ফলে সামগ্রিক ভাবে কেন ২১ বছর বয়সকে ন্যূনতম বলে মনে করা হচ্ছে একটি মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে, তা জানার জন্য মেয়েটির পর্যাপ্ত শিক্ষা ও জ্ঞান জরুরি।
উল্লেখ্য, ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী ভারতে ২৭ শতাংশ মেয়েদের ১৮ বছরের আগে এবং ৭ শতাংশ মেয়েদের বিয়ে ১৫ বছরের আগেই হয়ে যায় ৷
তবে এই মুহূর্তে ১৮ বছরের নীচে কারও বিয়ে হলে তবেই তাতে আইনত নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কথা বলেছে ওই টাস্ক ফোর্সের রিপোর্ট। কারণ ১৮ থেকে ২১ পর্যন্ত পথটা পেরোতে মানুষকে, সমাজকে আরও খানিকটা সময় দিতে হবে। এই নিয়ম রাতারাতি প্রয়োগ করা যাবে না। তবে ১৮ বছরের ওপরে কিন্তু ২১ বছরের নীচে কোনও মেয়ে যদি নিজে বিয়ে করতে না চায়, তবে সে আইনের দ্বারস্থ হতে পারে।
রিপোর্টে কর্নাটক মডেলের কথাও উল্লেখ করেছে টাস্ক ফোর্স। ২০১৭ সালে কর্নাটক সরকার বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত আইন পাশ করায়। সেখানে বলা হয়, সমস্ত নাবালিকা বিবাহই আইন নাকচ করছে। ফলে নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হয়ে যাওয়া কোনও মেয়ের ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকছে না নতুন করে জীবন শুরু করায়।