
শেষ আপডেট: 14 September 2022 03:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালো টাকার (Black Money) সন্ধানে এবার দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে আয়কর দফতর (Income Tax Department)। এই কাজে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে নির্বাচন কমিশনও (Election Commission Of India)।
সুরের খবর, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার রাজনৈতিক দলগুলির তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা আনতে বেশ কিছু সংস্কারের পরিকল্পনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, রাজনৈতিক দলগুলির কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা। কমিশনের বক্তব্য, চলতি আইনে যে কেউ রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে। কিন্তু বহু দলেরই কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। এমনকী নথিভুক্ত দলগুলির অর্ধেকের বেশি নির্বাচনে লড়াই করে না।
অথচ দেখা যাচ্ছে, তাদের দলীয় তহবিলে অনেক নামী দলের থেকে বেশি অর্থ জমা পড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, নাম গোত্রহীন দলগুলির মাধ্যমে কালো টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। রাজনৈতিক দলগুলিকে আয়কর দিতে হয় না। এই সুযোগে কালো টাকার লেনদেনে যুক্ত বহু ছোট দল।
জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আয়কর বিভাগ দলগুলির বাৎসরিক রিটার্ন খতিয়ে দেখে সন্দেহজনক ৩৩৯টি ছোট রাজনৈতিক দলকে চিহ্নিত করে অভিযান চালায় সম্প্রতি।
তাতে দেখা যায়, ৮৬টি দল স্রেফ খাতায় কলমে আছে। বছরের পর বছর এমনকী অফিস পর্যন্ত খোলে না। বাকিগুলি অফিস খুলে বসলেও কোনও কর্মকাণ্ড নেই।
দক্ষিণ মুম্বইয়ের বস্তিতে অফিস খুলে বসা এমনই একটি দলের তহবিলে গত বছর ৯০ কোটি টাকা জমা হয়েছে। ওই দলের তরফে দাবি করা হয় চাঁদা প্রদানকারীরা প্রত্যেকেই কুড়ি হাজার টাকার কম দিয়েছেন। তাই নগদে জমা পড়েছে চাঁদা। ফলে অনুদান প্রদানকারীর নাম-ঠিকানা তাদের জানা নেই। কমিশনের নিয়মের সুযোগ নিয়েই তারা এমন জবাব পেশ করে। বর্তমানে নিয়ম হল, কুড়ি হাজার টাকা বা তার বেশি অর্থ চাঁদা দিয়ে চেকের মাধ্যমে দিতে হবে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় মুরুব্বিরা দূরের গ্যালারিতে, মাঠে খেললেন রাজ্য নেতারাই
আয়কর দফতর তাদের হিসাবপত্র খতিয়ে দেখে বুঝতে পারে যে খরচ বিভিন্ন খাতে দেখানো হয়েছে তার পুরোটাই ভুয়ো। যেমন ওই দলের পক্ষে দাবি করা হয় তারা গণেশ পুজোয় মানুষকে জামা কাপড় দিয়েছে। খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে। এছাড়া বছরভর বস্তির গরিব মানুষকে তারা খাওয়ায়। কিন্তু আয়কর দফতরের অনুসন্ধানে এসবের সত্যতা মেলেনি।
আয়কর দফতর ও নির্বাচন কমিশনের ধারণা, এই সব ভুঁইফোর দলের তহবিলের টাকা বড় রাজনৈতিক দলের হওয়া অসম্ভব নয়। কারণ, বিমুদ্রাকরণের পর সব দলেই অর্থের টানাটানি শুরু হয়েছে। কারণ আগের হিসাব বহির্ভূত জমানো অর্থ কোনও দলই খরচ করতে পারছে না বিমুদ্রকরণের পর থেকে।
কমিশন ভাবনাচিন্তা করছে, আগামীদিনে রাজনৈতিক কর্মসূচি খাতে খরচের হিসাব খতিয়ে দেখার কোনও ব্যবস্থা আইনি উপায়ে করা যায় কিনা।
সূত্রের খবর, মুম্বইয়ের ওই দলটি ছাড়াও দেশের শতাধিক ছোট পার্টির বড় তহবিল কমিশন ও আয়কর দফতরের রাডারে রয়েছে।