
শেষ আপডেট: 29 December 2022 02:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেরিয়ার আন্দোলনের জন্মভূমি তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) এক গ্রাম থেকে বর্ণবৈষম্যের ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানে এখনও উচ্চবর্ণের মানুষ ও তফসিলি জনজাতির জন্য জলের ট্যাঙ্ক (Water Tank) আলাদা। এমনকী একটি চায়ের দোকানে দুই বর্ণের মানুষের চা খাওয়ার গ্লাসও আলাদা। এবার সেই গ্রামেই দলিতদের (Dalits) জন্য নির্দিষ্ট একটি জলের ট্যাঙ্কে মানুষের মল (Dump) ভাসছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে কে বা কারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, সেটা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর ইরায়ুর গ্রামে।
ঘটনার তদন্তে সেই গ্রামে যাওয়ার পর একাধিক বৈষম্যের ঘটনা পুলিশের নজরে এসেছে। এখনও কীভাবে এই গ্রামের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জাতি বৈষম্য ঢুকে রয়েছে, তা দেখে রীতিমতো আঁতকে উঠছেন তাঁরা। জানা গেছে, জলের ট্যাঙ্ক, চায়ের গ্লাস আলাদা ছাড়াও গ্রামের এক মন্দিরে এখনও দলিতদের প্রবেশ নিষেধ। এমনই একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার সেখানে তদন্তকারী দল পাঠাচ্ছে বিজেপি।
উল্লেখ্য, ওই গ্রামের প্রায় ১০০ জন দলিতের বাড়িতে জল যায় সেই ট্যাঙ্ক থেকেই। সম্প্রতি ১০ হাজার লিটারের জলের ট্যাঙ্ক থেকে অনেকটা পরিমাণে মানুষের মল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারের আগে যখন গ্রামবাসীরা ট্যাঙ্কের কাছে গিয়েছিল, তখন তাঁরা দেখেন সেটির ঢাকনা খোলা এবং ট্যাঙ্কের চারধারে দেওয়া বেড়াটিও খোলা। এই অভিযোগ পেতেই গ্রামে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন পুদুকোট্টাইয়ের কালেক্টর কবিতা রামু।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে তাঁদের বাড়ির ছেলেমেয়েরা ওই জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। তারপরই কয়েকজন ব্যক্তি সেই ট্যাঙ্কে চড়ে দেখেন জলের মধ্যে মানুষের মল ভাসছে। স্থানীয় এক সমািকর্মী বলেছেন, “ট্যাঙ্কের ভিতরে এতটাই মল ছিল যে জল হলুদ রঙের হয়ে গিয়েছে। এসব না জেনেই সবাই এই জল পান করছিল।"
এদিকে কালেক্টরকে কাছে পেয়ে এতদিন ধরে চলে আসা তাঁদের প্রতি সমস্ত অত্যাচারের কথা জানান গ্রামবাসীরা। কীভাবে উচ্চবর্ণের মানুষের কাছে তাঁরা নির্যাতিত, সবই খুলে বলেন। গ্রামের মন্দিরে গত তিন পুরুষ ধরে ঢুকতে না পারার কথা, চায়ের দোকানে আলাদা গ্লাসের কথা- সবই শোনেন কালেক্টর। এ কথা শুনেই ওই চায়ের দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর কালেক্টর ও জেলা পুলিশের প্রধান সেই দলিত গ্রামবাসীদের নিয়ে মন্দিরেও যান। তখনও বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়। সেখানকারই উচ্চবর্ণের এক মহিলা জানান, তাঁর মধ্যে দেবতা ভর করেছেন এবং তিনি চান না নিচু জাতির মানুষ এই মন্দিরে পা রাখুক। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করে। মন্দিরে দাঁড়িয়ে সেই গ্রামেরই মেয়ে সিন্ধুজা তখন বলেন, 'আমার এখন ২২ বছর বয়স। গত তিন পুরুষের কেউ এই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেননি। আমি অবশেষে পারলাম।'
চন্দ্রবাবুর 'রোড শো'য়ে তুমুল বিশৃঙ্খলা-হুড়োহুড়ি, পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু