দ্য ওয়াল ব্যুরো : কৃষক আন্দোলনের মুখে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন সংশোধন করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। এদিন কৃষকদের সঙ্গে ফের সরকার আলোচনায় বসে। এই নিয়ে চলতি সপ্তাহে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে তৃতীয়বার বৈঠকে বসল কেন্দ্রীয় সরকার। সব মিলিয়ে মোট পাঁচবার কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকারের বৈঠক হল। শনিবার কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর।
এদিন কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন নরেন্দ্র সিং তোমর ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। রেলমন্ত্রী কৃষকদের লিখিত প্রস্তাব দেন। বৈঠকের আগেই দোয়াবা কিষাণ সংঘর্ষ কমিটির নেতা হরসুলিন্দর সিং বলেন, "আমরা চাই বিতর্কিত আইনগুলি নাকচ করা হোক। আইন সংশোধনের প্রস্তাব আমরা মানব না।" কৃষি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কৈলাস চৌধুরি বলেন, "নতুন আইন নিয়ে কৃষকদের বোঝানো হবে। তাহলে তাঁদের সন্দেহ ঘুচবে। তাঁরা আন্দোলন থামিয়ে দেবেন।"
আগামী মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর সারা ভারত বন্ধের ডাক দিয়েছেন কৃষকরা। সেদিন দিল্লিগামী সব রাস্তা অবরোধ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
কৃষক নেতা হরিন্দর সিং লাখোয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আগামী মঙ্গলবার আমরা ভারত বন্ধের ডাক দিয়েছি। দিল্লিগামী সব রাস্তা সেদিন বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া দেশের সব টোল গেট অবরুদ্ধ করব আমরা। সেদিন সরকারকে কোথাও টোল নিতে আমরা দেব না। এই আন্দোলনের সঙ্গে আরও অনেক মানুষ যোগ দেবেন।”
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকার ও কৃষক সংগঠনগুলির মধ্যে বৈঠক হয়। কিন্তু সাত ঘণ্টার বৈঠকের পরেও কোনও সমাধান পাওয়া যায়নি। তারপরেই কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেন, “সাত ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়েছে। কৃষকরা যে দাবি করেছেন তা মন দিয়ে শোনা হয়েছে। ৫ তারিখ ফের আমরা বৈঠকে বসব।”
গত সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়েছে কৃষক আন্দোলন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে দিল্লি আসার পথে বারবার বাধা পেতে হয়েছে কৃষকদের। অনেক জায়গায় ব্যারিকেড করে আটকানো হয়েছে তাঁদের। কোথাও লাঠিচার্জ, কোথাও জলকামানের সামনে পড়তে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু তাতেও থামেনি মিছিল। ট্রাকে করে, পায়ে হেঁটে কয়েক লাখ কৃষক জড়ো হয়েছেন দিল্লি সীমান্তে। সেখানেই অবস্থান করছেন তাঁরা। এই আন্দোলনে তাঁরা অনেক সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে পেয়েছেন। প্রতিদিনই যেন বহর আরও বাড়ছে আন্দোলনের।