
শেষ আপডেট: 11 May 2023 06:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মুখের উপর জবাব দিলেন রাজ্যস্থানের মুখ্যমন্ত্রী (Rajasthan CM) অশোক গেহলট (Narendra Modi Ashok Gehlot)। বুধবার মরুরাজ্যের নাথদ্বয়ারায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সড়ক ও রেলের প্রকল্প উদ্বোধন করতে যান। শিলান্যাসের পর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই জাতীয় আর পাঁচটা অনুষ্ঠানের মতোই বিরোধী দল এবং অতীতের সরকারগুলির সমালোচনায় মুখর হন। তাঁর বক্তব্য, ‘বিরোধীরা শুধু নেতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরে।’ সেই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, আগের সরকারগুলি কেন রাস্তা, রেলের মতো পরিকাঠামোর উন্নয়নে জোর দেয়নি। তাঁর কথায়, 'মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিকাঠামোর উন্নয়নও জরুরি।’
জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদেরও তাদের কথা বলতে দিতে হবে। বিরোধী ছাড়া শাসক হয় নাকি? এটাই তো গণতন্ত্রের গোড়ার কথা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও এইভাবে ভাবতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের রাজ্যপাল রাজ্য বিজেপির সভাপতি। এছাড়া হাজির ছিলেন কংগ্রেস নেতা সিপি যোশীও। তিনি বিধানসভার স্পিকার এবং নাথদ্বয়ারায় বিধায়ক। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় টিভি চ্যানেল তো বটেই বেশ কয়েকটি ন্যাশনাল চ্যানেলেও লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছিল।
গেহলট যে তাঁর মুখের উপর এভাবে জবাব ফিরিয়ে দেবেন, সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী তা ভাবতে পারেননি। আসলে মোদী বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ভাষণে অতীতের সরকারগুলির ব্যর্থতা নিয়ে সরব হন। আর ছয় মাসের মাথায় রাজস্থান বিধানসভার ভোট। ভোটের আগের আর পাঁচটা রাজ্যের মতো রাজস্থানেও মোদী কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন শুরু করলেন। বুধবার সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে বলেন, আগের সরকারগুলির ভুল নীতি আর ব্যর্থতার জন্য রাজ্যস্থান পিছিয়ে পড়েছে।
মোদী যদিও অতীতে একাধিকবার রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। তাঁকে বন্ধু বলেও সম্মোধন করেছেন। যে কারণে কংগ্রেসের শচীন পাইলট শিবির অভিযোগ করে থাকে গেহলটের সঙ্গে মোদীর সেটিং আছে। বুধবার সেই মোদীকে মুখের উপর জবাব দিয়ে গেহলট তাঁর দলীয় প্রতিপক্ষ শচীনের মুখেও ঝামা ঘষে দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে সব মিলিয়ে স্তম্ভিত অনেকেই। মোদীকে তাঁরই সামনে গেহলট রাজধর্ম ও গণতন্ত্রের পাঠ দেওয়ায় হতবাক বিজেপি-সহ সব দল।
বুধবারের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পর ভাষণ দিতে ওঠেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি অনুষ্ঠান হলেও সেখানে শয়ে শয়ে বিজেপি সমর্থক দলীয় পতাকা হাতে হাজির ছিলেন। গেহলটকে ভাষণ দিতে ডাকা মাত্র তাঁরা ‘মোদী’ ‘মোদী’ বলে চিৎকার জুড়ে দেয়। টানা স্লোগানবাজি চলতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী তাদের থামতে বলেন। যদিও তাতেও কাজ হয়নি।
কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র না দমে রাজস্থানের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী মোদীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিরোধী দল ছাড়া শাসক হয় নাকি? এটা গণতন্ত্রের গোড়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী আপনাকে এই ভাবেই ভাবতে হবে।’ গেহলট আরও বলেন, ‘এই যে আমরা এখানে বসে আছি। কেউ কংগ্রেস, কেউ বিজেপি। তাতে কারও কিছু এসে যায় না। আমরা কেউ কারও শত্রু নই। আমাদের বিরোধ নীতিগত।’
এরপর দেশে হিংসা, পিটিয়ে মারার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে গেহলট প্রধানমন্ত্রীকে একপ্রকার পরামর্শ দেওয়ার মতো করে বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনার পর দেশবাসী প্রত্যাশা করে, আপনি বিবৃতি দিয়ে বলবেন, যারা এই কাজ করেছে তারা সমাজ বিরোধী।’ গেহলট স্মরণ করেন প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধীকে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্দিরাজি শহিদ হয়েছেন। কিন্তু খলিস্তান হতে দেননি। রাজীব গান্ধীও শহিদ হয়েছেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। ইতিহাস বলছে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলে তবেই মঙ্গল। প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ সর্বদা সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দেশকে পরিচালনা করা।’
এখানেই থেমে না থেকে অনুষ্ঠান শেষ হতে লিখিত বিবৃতিতে ফের প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ হয়নি ভাষণে রাজনীতি টেনে আনা। তাঁর মুখে বিরোধী দল এবং আগের সরকারগুলির সমালোচনা শোভা পায় না। তিনি কী করে বলেন, অতীতে কাজ হয়নি। একটা দেশে রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।’
মোদীর গুরুত্ব বাড়ল আমেরিকার কাছে, জুনে রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণ জানালেন বাইডেন